কলম্বোতে গ্রেফতার হওয়া তিন বাংলাদেশি ছিলেন মাদকের বাহক

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৩১

শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে গ্রেফতার হওয়া নারীসহ তিন বাংলাদেশি নাগরিক মাদক পাচারে আন্তর্জাতিক বাহক হিসেবে কাজ করেছেন। আফগানিস্তান থেকে করাচী হয়ে কলম্বোতে এই মাদকগুলো আসত। সেখান থেকে মাদক ঢাকা হয়ে কাঠমান্ডু পর্যন্ত ওই চালান পৌঁছে দেওয়াই কাজ ছিল তাদের। মাঝে-মধ্যে মাদক চালান কলম্বো থেকে কুয়ালালামপুর হয়ে ঢাকায় আনা হতো। কলম্বোতে গ্রেফতার হওয়া তিন বাংলাদেশি মাদক পাচারের গডফাদারদের সঙ্গে কোনো পরিচয় নেই। তবে ঢাকায় গ্রেফতার হওয়া চয়েজ রহমানকে তারা আগে থেকেই চিনতেন। বাংলাদেশের ৬ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গত ১৬ জানুয়ারি থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত কলম্বোতে তদন্ত করে এসব তথ্য জানতে পারেন।

তদন্ত কমিটির সদস্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (গোয়েন্দা) নজরুল ইসলাম সিকদার বলেন, সূর্যমনি লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার একটি প্রত্যন্ত গ্রামের মেয়ে। তার বাবা কৃষি কাজ করেন। বাবার আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় দুই ভাইবোন ঢাকায় চলে আসে। সূর্যমনি প্রথমে গৃহকর্মী হিসেবে উত্তরা ও গুলশানের কয়েকটি বাসায় কাজ করে। ভাই কয়েক বছর পোশাক কারখানায় কাজ করে পুনরায় বাড়ি ফিরে যায়। তবে সূর্যমনি পোশাক কারখানায় কাজ করতে থাকেন। এ সময় পরিচয় হয় চয়েজ রহমান নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে। এই ব্যক্তির গুলশানে ‘বায়িং হাউজ’ রয়েছে। চয়েজ রহমান সূর্যমনিকে তার বায়িং হাউজে চাকরি দেওয়ার পর এবং তাকে পাসপোর্ট করে দেন। এরপর মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কা রুটে বেশ কয়েকবার পাঠানো হয় তাকে। সূর্যমনি চারবার কলম্বো যায়। এই যাতায়াতের সময় তাকে মাদকের বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, কলম্বোতে গ্রেফতার হওয়া অপর দুই ব্যক্তির মধ্যে জামাল উদ্দিনের বাড়ি ময়মনসিংহে। তার শ্বশুরবাড়ি বগুড়ায়। সেখানেই তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। জামাল উদ্দিন নারায়ণগঞ্জে কাপড় ফেরি করে বিক্রি করত। অন্যজন জয়পুরহাটের দেওয়ান রাফিউল ইসলাম অবস্থাপন্ন কৃষক পরিবারের সন্তান। গ্রেফতার হওয়া তিনজনকে তদন্ত কমিটি জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তারা মাদক বাহক হিসেবে ব্যবহূত হয়েছে। তারা গডফাদারদের সম্পর্কে কোনো তথ্যই জানে না। তবে তারা কলম্বোতে দুইটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে বসবাস করত। তাদের সঙ্গে ঢাকায় যোগাযোগ রাখা একটি সিন্ডিকেটের নামের তালিকা পাওয়া গেছে। এমনকি ঢাকা থেকে আরও একটি সিন্ডিকেট মাঝে-মধ্যেই কলম্বোতে যাতায়াত করত। ওইসব তথ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি। এই পুরো চক্রটি আফগানিস্তান, করাচি, কুয়ালালামপুর, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কায় মাদক আনা-নেওয়া করত বলে শ্রীলঙ্কান পুলিশ বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দাবি করেছে।

উল্লেখ্য, গত ১৪ ডিসেম্বর ও ৩১ ডিসেম্বর শ্রীলঙ্কার কলম্বোর মাউন্ট লাভিয়ানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সূর্যমনি, জামাল উদ্দিন ও দেওয়ান রফিউল ইসলামকে ২৭২ কেজি হেরোইন ও ৫ কেজি কোকেনসহ গ্রেফতার করে।