৫ মের আগে খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন বাবুনগরী

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২১, ২২:৩৪

মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের কর্মসূচির ঠিক এক সপ্তাহ আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন জুনায়েদ বাবুনগরী। বিএনপির পক্ষ থেকে ঐ আন্দোলনে অর্থ সহায়তাও পাওয়া যায়। পাশাপাশি জামায়াতের নেতাকর্মীরা সরাসরি হেফাজতের কর্মসূচিতে ঢুকে জ্বালাওপোড়াও করে সরকারের পতন ঘটাতে চেয়েছিল। আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এমন কথা বলেছেন হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগর কমিটির তত্কালীন প্রচার সম্পাদক মুফতি ফখরুল ইসলাম। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ জনসেবা আন্দোলনের চেয়ারম্যান। গত সোমবার মুখ্য মহানগর হাকিম দেবদাস চন্দ্র অধিকারীর আদালতে তিনি এই স্বীকারোক্তি দেন। এতে ঐ সময়ের বেশ কিছু চিত্র উঠে এসেছে।

এদিকে গোয়েন্দা পুলিশের রিমান্ডে হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, হেফাজতের বর্তমান নেতাদের মধ্যে ৩০ ভাগ জামায়াতসংশ্লিষ্ট, ৩০ ভাগ আফগান মুজাহিদ আর ৪০ ভাগ সত্যিকারের ধর্মীয় রাজনীতি করেন। অন্যদিকে হেফাজতের ঢাকা মহানগরের সহ-সভাপতি মাওলানা কোরবান আলীকে গতকাল গ্রেফতার করেছে ডিবি।

গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে মামুনুল হক বলেছেন, ২০১৩ সালে বিএনপির পেছনে থেকে ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমের স্বপ্ন দেখতেন তারা। এখন তিনি মনে করেন, হেফাজতই সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবে আর বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল তাদের পেছনে থাকবে। গত ২৬ মার্চ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পতনের চেষ্টার কথাও তিনি জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।  

এদিকে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে মুফতি ফখরুল বলেছেন, ২০১৩ সালের ৫ মের সেই সহিংসতায় তত্কালীন বিএনপি ও জাময়াতের একাধিক শীর্ষ নেতা অর্থসহায়তা দিয়েছিলেন। সহিংসতায় অংশ নিয়েছিলেন বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরাও। গত ১৪ এপ্রিল লালবাগ এলাকা থেকে মুফতি ফখরুলকে গ্রেফতারের পর পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রিমান্ড  শেষে সোমবার তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।

মুফতি ফখরুল বলেছেন, ‘২০১৩ সালের ৫ মে আমি কারাঙ্গীরচর মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক ও এলাকার ৮/১০ হাজার হেফাজত কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে লালবাগ-চকবাজার হয়ে নয়াবাজারে আসি। জোহরের নামাজ পর্যন্ত আমরা ৮/১০ হাজার লোকসহ এখানেই ছিলাম। জোহরের নামাজ আদায়ের পর দুপুর ২টার দিকে হেফাজতে ইসলামের তত্কালীন কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ সাহেব ফোন দিয়ে সবাইকে নিয়ে শাপলা চত্বরে যাওয়ার জন্য বলে। শাপলা চত্বরে যাওয়ার সময় গোলাপশাহ মাজারের (গুলিস্থান) সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের বাধা দেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পালটাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তারা সেখানে ছত্রভঙ্গ হয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। দুপুর ৩টার দিকে তার নেতৃত্বে ৫/৭ হাজার লোক নিয়ে তিনি শাপলা চত্বরে পৌঁছান। সেখানে মাওলানা মাঈনুদ্দীন রুহী তাকে বলেছেন, আন্দোলন ও সহিংসতার বিষয়ে দুজন বিএনপি নেতা এবং একজন জামায়াত নেতা তাদের অর্থ সহযোগিতা করছে। এছাড়া ঐ বছরের ২৮ এপ্রিল বাবুনগরীর সঙ্গে খালেদা জিয়ার গোপন বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে হেফাজতের প্রোগ্রাম শাপলা চত্বরে স্থায়ী হলে বিএনপি ও জামায়াতও যোগ দেবে বলে আলোচনা হয়েছে। ঐ দিন দুপুর থেকেই বিএনপি-জাময়াতের কর্মীরা রাস্তায় বাধা সৃষ্টি ও আগুন দেওয়া শুরু করে।’

গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, ২০১৩ সাল থেকেই জুনায়েদ বাবুনগরী বিএনপি-জামায়াত ঘেঁষা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আহমদ শফীর জন্য আগে তেমন সুবিধা করতে পারেননি। তার মৃত্যুর পর বাবুনগরী আমির নির্বাচিত হলে হেফাজত পুরোপুরি ‘অ্যান্টি গর্ভনমেন্ট অ্যাক্টিভিটিজ’ শুরু করেছে। এর ফলে গত বছরের শেষের দিকে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন নিয়ে বিরোধিতা শুরু করে চলতি বছরে মোদিবিরোধী আন্দোলনের নামে সহিংসতা শুরু করে।

অপরদিকে ঢাকা মহানগর হেফাজতের সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা কোরবান আলীকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গতকাল বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বাসাবোর বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার ছেলে ওবায়দুল্লাহ বলেন, ‘ডিবি পুলিশের পরিচয়ে আমার আব্বা মাওলানা কোরবান আলীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’ ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার তাকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।