করোনা নয়, ডায়রিয়া কাঁপাচ্ছে বরগুনাকে

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২১, ২১:১৪

করোনাভাইরাস নয়, ডায়রিয়া কাঁপাচ্ছে বরগুনাকে। করোনাভাইরাসের এই ভয়াবহতার মধ্যেই বরগুনায় মারাত্মক রূপ নিয়েছে ডায়রিয়া। এক সপ্তাহে জেলায় ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৩শ জন।

গত এক যুগ বা তারও বেশি সময়ের মধ্যে বর্তমানে বরগুনায় ডায়রিয়ার প্রকোপ সবচেয়ে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ২০২১ সালে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে বরগুনায় এ পর্যন্ত একজনের প্রাণহানি ঘটলেও ডায়রিয়ায় ইতোমধ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন দুইজন। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে বেগ পেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। জেলা সদর হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীতে ভরে গেছে। বিপুল পরিমাণ রোগীর কারণে দেখা দিয়েছে ওষুধ সংকট। 

বরগুনা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যানবিদ জেলিয়া ইয়াসমিন বলেন, ইতোমধ্যেই বরগুনায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে দুজন মারা গেছেন। গত এক সপ্তাহে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ২৯২ জন। তার মধ্যে সদর উপজেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪৭৪ জন, বেতাগীতে ৩৪৮ জন, আমতলীতে ২৩১ জন, বামনায় ১০৭ জন এবং পাথরঘাটা উপজেলায় আক্রান্ত  হয়েছেন ১৩২ জন। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত  হয়েছেন ৩২১ জন।


বরগুনা জেলা স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক খান মুহা. সালামাত উল্লাহ বলেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের ভয়াবহতার থেকেও বরগুনায় ডায়রিয়ার প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর কারণে জেলা সদর হাসপাতালসহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে তিল ধারনের ঠাঁই নেই। 

ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মদন মোহ দাশ (৬৫) জানান, তিনি একজন নিরামিষভোজী। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার মতো কোনো খাবার তিনি খাননি। তারপরও তিনি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বরগুনা সদর হাসপাতালের মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সবুজ (২৫) নামে এক যুবক জানান, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার মতো কোনো খাবার তিনি খাননি। তবে খালের পানিতে গোসল করেছিলেন। এরপর মঙ্গলবার রাত থেকে তিনি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হন।

বরগুনা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের স্টোর কিপার মো. আমিনুর রহমান বলেন, বরগুনায় ডায়রিয়ার প্রকোপ করোনার থেকেও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে হাসপাতালসহ কয়েকটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডায়রিয়া রোগীদের জন্য মজুত ওষুধ ফুরিয়ে গেছে। মঙ্গলবার বরগুনায় এক হাজার মিলিলিটারের তিন হাজার ও পাঁচশ মিলিলিটারের চার হাজার ব্যাগ স্যালাইন বরাদ্দ এসেছে। 

এ বিষয়ে বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মারিয়া হাসান বলেন, বরগুনায় উদ্বেগজনকহারে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। অনাবৃষ্টির ফলে পানি দূষণের কারণে জেলায় বিপুল পরিমাণ মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের স্যালাইন সংকট থাকলেও এই মুহূর্তে তা কিছুটা সমাধান হয়েছে। গ্রামসহ সর্বত্র মানুষকে ডায়রিয়ার বিষয়ে সচেতন করতে স্বাস্থ্য বিভাগ প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।

 

ইত্তেফাক/এনএ