পাইলটের মানসিক অবস্থাকে দায়ী করেছে নেপালি তদন্ত কমিটি

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:৩৮

গত বছর কাঠমান্ডুতে ইউএস বাংলার বিমান দুর্ঘটনার জন্য পাইলটের মানসিক বিপর্যস্ত অবস্থা এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণার অভাবকে দায়ী করেছে নেপালের তদন্ত কমিটি। তবে এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন গ্রুপ অব বাংলাদেশ (এএআইজি-বিডি) এ প্রতিবেদনে পাইলটকে একপেশে দোষারোপ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে।

২০১৮ সালের ১২ মার্চ কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার বম্বার্ডিয়ার ড্যাশ এইট কিউ-৪০০ বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতান ছিলেন ঐ ফ্লাইটের পাইলটের দায়িত্বে। দুর্ঘটনায় তিনিসহ বিমানের মোট ৫১ জন যাত্রী এবং ক্রু নিহত হন। এরপর দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করে নেপালের কর্তৃপক্ষ। গত রবিবার ওই কমিটি ৪৩ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই বিমানে ছিলেন না এমন একজন নারী সহকর্মী প্রশিক্ষক হিসেবে পাইলটের দক্ষতা নিয়ে অতীতে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এ বিষয়টি নিয়ে পাইলট আবেগ তাড়িত ছিলেন এবং মানসিক চাপের মধ্যেই বিমানটি চালাচ্ছিলেন। সে সময় তিনি নিরাপত্তা গাইডলাইন লঙ্ঘন করে ককপিটে বসে ধূমপান করছিলেন। বিমান চালনার সময় তিনি অনেক বেশি কথাও বলছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫২ বছর বয়সী পাইলটকে ১৯৯৩ সালে বিষাদগ্রস্ততার কারণে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে বলা হয় যে, তিনি বেসামরিক বিমান চালাতে পারবেন। যদিও সাম্প্রতিক মেডিক্যাল রিপোর্টে সে ধরনের কোনো উপসর্গ উল্লেখ করা হয়নি।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাডার ব্যবহার করে রানওয়ে না দেখে বা যথাযথ প্রক্রিয়াগুলো অনুসরণ না করেই বিমানটি অবতরণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

শুধু পাইলট নয়, নেপালের এটিসিরও ভুল ছিল :এএআইজি-বিডি

নেপালের তদন্ত কমিটির এ প্রতিবেদনকে একপেশে বলে অভিযোগ তুলেছে এএআইজি-বিডি। গতকাল বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদর দফতরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এএআইজি-বিডি’র প্রধান ক্যাপ্টেন সালাহ্উদ্দিন এম রহমতউল্লাহ বলেন, প্রতিবেদনে পাইলট সংক্রান্ত যে বিষয়গুলো উঠে এসেছে সেগুলো ঠিক আছে, তবে নেপালের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার-এটিসি’র ভুল সংক্রান্ত বিষয়গুলো উঠে আসেনি। এটিসি বিষয়ে বাংলাদেশ থেকে অ্যামেনডমেন্ট দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।