‘পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। এস্কান্দার সরদার এ হত্যায় মদদ দিয়েছেন, তিনি জরিত। আমরা বিষয়টি বলার পরও পুলিশ তাকে আসামি করেনি, তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করছে না’। এমনটা বলেই আর্তনাদ করছিলো নিহত শরীয়তপুর যুবলীগ নেতা দাদনের বাবা সেকান্দার খলিফা।
বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) এ হত্যার প্রতিবাদে ও বিচারের দাবীতে শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচী পালনকালে নিহত যুবলীগ নেতার বাবা একথা বলে বারবার মূর্ছা যান।
.jpeg)
শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মাননবন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়েছে। ছবি: ইত্তেফাক
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শরীয়তপুর সদর উপজেলার গয়ঘর গ্রামের বাসিন্দা দাদন খলিফাকে (২৮) গত শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করে। দাদন খলিফা স্থানীয় শৌলপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা (শ্রম বিষয়ক সম্পাদক) ও মালয়েশিয়া প্রবাসী ছিলেন। গত জানুয়ারিতে তিনি দেশে ফিরে আসেন। পূর্ব শত্রুতার জের ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে তাকে হত্যা করা হয় বলে জানায় পুলিশ। ওই ঘটনায় দাদন খলিফার বাবা সেকান্দার খলিফা বাদী হয়ে সদরের পালং মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ১০ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশ এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা এখনো পলাতক রয়েছে।
এ হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধনে জেলা ও সদর যুবলীগের আয়োজনে এ কর্মসূচীতে তিনশতাধিক মানুষ অংশ নেয়। এসময় মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নুহুন মাদবর, সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি বিল্লাল হেসেন দিপু মিয়া, দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত যুবলীগ নেতা দাদন খলিফার বাবা সেকান্দার খলিফা, স্ত্রী নিশি আক্তার প্রমুখ।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে বলেন, যুবলীগের এক নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্ত পুলিশ এখনো তাদের গ্রেফতার করতে পারেনি। এ হত্যার নেপথ্যের নায়কদের আটক করা হচ্ছে না। হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে লকডাউন উপেক্ষা করেই মানববন্ধন কর্মসূচি করতে হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ কর্মসূচি পালন করেছি।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আক্তার হোসেন বলেন, যুবলীগ নেতা হত্যার মামলার আসামিদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। যারা পালিয়ে আছেন তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। আর তদন্ত করা হচ্ছে এ হত্যাকাণ্ডে নেপথ্যে কারা আছেন জানার জন্য।
ইত্তেফাক/এমএএম
