টঙ্গীতে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের অনিয়ম নিয়ে গত ২৩.১২.২০ তারিখে দৈনিক ইত্তেফাকে ‘হাসপাতাল, নাকি পার্টি সেন্টার?’ শিরোনামে একটি চিঠি প্রকাশিত হয়। ধন্যবাদ দৈনিক ইত্তেফাক কর্তৃপক্ষকে চিঠিটি গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশের জন্য। ঐ চিঠি প্রকাশের পর অনিয়মের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে পড়েছিল নিশ্চয়ই। এই কারণে কর্তৃপক্ষ জনস্বার্থে আদেশ জারির মাধ্যমে ব্যবস্থাও গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু যিনি বা যাঁরা অনিয়ম করছেন, স্ট্যান্ড রিলিজের পরও বিস্ময়করভাবে কিছুদিনের মধ্যে পুনরায় এই হাসপাতালে ফিরে আসার ব্যবস্থা করে ফেলেন।
ঘটনাটি এরকম যে, শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজারকে গত ০৭.০৩.২১ তারিখে ঢাকায় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মিটফোর্ট হাসপাতালে বদলি করা হয়। বদলিকৃত নার্সিং সুপারভাইজারের ১৪.০৩.২১ তারিখে আবশ্যিকভাবে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করার কথা; অন্যথায় ১৫.০৩.২১ তারিখ অপরাহ্নে তাত্ক্ষণিকভাবে অবমুক্তি (স্ট্যান্ড রিলিস) হিসাবে গণ্য হবেন—এই মর্মে আদেশটি জনস্বার্থে জারি হয়েছিল। কিন্তু এই আদেশ সত্ত্বেও বদলিকৃত নার্সিং সুপারভাইজার নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করে দাপটের সঙ্গে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতলেই অবৈধভাবে অবস্থান করছেন। অনেকেই মনে করছেন, নার্সিং সুপারভাইজার এতখানি অনিয়মের সাহস পাচ্ছেন ডেপুটি নার্সিং সুপারিনটেন্ডেন্টের প্রশ্রয় পেয়ে। তদন্ত করলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানতে পারবেন যে, ইতিমধ্যে বদলিকৃত নার্সিং সুপারভাইজার ডেপুটি নার্সিং সুপারিনটেন্ডেন্টকে ম্যানেজ করে ব্যাকডেটে হাসপাতাল থেকে না-দাবির কাগজ নিয়ে অবসরে যাওয়ার জন্য দরখাস্ত তৈরি করেন। এই কাগজ ডিজিএনএম-এ প্রেরণও করা হয়। কিন্তু বিস্ময়করভাবে গত ৫ এপ্রিল বদলিকৃত নার্সিং সুপারভাইজারকে বদলির আদেশ সংশোধন করে তাঁকে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালেই বহাল রাখা হয়। ইতিমধ্যে দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত চিঠিতে এই হাসপাতালের যেসব অনিয়ম প্রকাশ পায় তার মধ্যে একটি ছিল— সুপারভাইজারগণ নিয়মিত ডিউটি না করে পরের দিন এসে খাতায় পূর্ববর্তী দিনগুলোর স্বাক্ষর করেন। ০৩.০১.২১ থেকে ০৭.০১.২১ পর্যন্ত বদলিকৃত নার্সিং সুপারভাইজার হাসপাতালে অনুপস্থিত ছিলেন। কিন্তু নার্সিং সুপারভাইজার সম্ভবত উপরের কাউকে ম্যানেজ করে এই খালি ঘরে স্বাক্ষর করেছেন। এসংক্রান্ত প্রমাণ রয়েছে।
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করলে জানতে পারবেন যে, হাসপাতালে নার্সিং সুপারভাইজাররা কোনো নাইট ডিউটি করেন না। এর ফলে সাধারণ নার্সগণ রাতের বেলায় অসহায়বোধ করেন। অথচ সারা বাংলাদেশে সমস্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সব হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজাররা নাইট ডিউটি করে থাকেন। তদন্ত করলে আরো জানা যাবে যে, সাধারণ নার্সদের বিপদে ফেলে একটি সিন্ডিকেট নানান ধরনের ফায়দা তোলার ব্যবস্থা করেন। বদলিকৃত সুপারভাইজার প্রায়শই ডেপুটি নার্সিং সুপারিনটেন্ডেন্ট-এর রুমে বসে সাধারণ নার্সদের হুমকি-ধামকি দেন। সাধারণ কর্মচারীরা আশঙ্কা করছেন, ডেপুটি নার্সিং সুপারিনটেন্ডেন্ট ডিজিএনএম-এর অ্যাডমিন প্রশাসনকে বিশেষভাবে ম্যানেজ করে সেবা তত্ত্বাবধায়ক পদে আসার চেষ্টা করছেন। ডেপুটি নার্সিং সুপারিনটেন্ডেন্ট যদি সেবা তত্ত্বাবধায়ক হিসাবে এই হাসপাতালে নিয়োগ পান, তাহলে সাধারণ নার্সদের উপর অত্যাচারের মাত্রা আরো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বেশ কিছু দিন আগে ঢাকা ডিভিশনের এডি ম্যাডাম এই হাসপাতার পরির্দশনে এসেছিলেন। তখন বর্তমান বদলিকৃত নাসিং সুপারভাইজার নানানভাবে এডি ম্যাডামকে ‘হাত’ করার চেষ্টা করেছেন। উল্লেখ্য যে, ডেপুটি নার্সিং সুপারিনটেন্ডেন্ট কখনো হাসপাতালের ওয়ার্ডে নার্সদের দেখতে আসেন না এবং হাসপাতালের ওয়ার্ড ইনচার্জদের কাছে ডিউটি রোস্টার দিতে চান না। তিনি ডিউটি রোস্টার হাতে রেখে ক্ষমতা দেখান এবং সাধারণ নার্সদের ওপর ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। অন্যদিকে, রোগীদের তরফ থেকে অভিযোগ আছে যে, ইমারজেন্সির ইনচার্জ ইমারজেন্সির রোগীদের কাছ থেকে ‘উপরি টাকা’ আয় করেন। এই হাসপাতালে সমস্ত সুপারভাইজার ত্রিশ থেকে পঁয়ত্রিশ বছর ধরে দায়িত্বে থাকার ফলে তাঁরা হাসপাতালের প্রশাসনকে জিম্মি করে রেখেছেন। যার ফলে সরকারের কোনো আইন হাসপাতালে চলে না। এ অবস্থায় নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের ডিজি স্যারের কাছে সবিনয় নিবেদন এই যে, উপরিউক্ত বিষয়াদি তদন্ত করে অনুগ্রহপূর্বক কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করুন এবং এই হাসপাতালের সাধারণ নার্সদের বাঁচান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
