ধামইরহাটে গমের বাম্পার ফলন

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২১, ২১:৪৬

ধামইরহাট (নওগাঁ) সংবাদদাতা

ধামইরহাটে এবার গমের ফলন ও দাম বেশি পেয়ে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। অন্য বারের তুলনায় এবার উচ্চ ফলনশীল গমের বীজ বপন করায় ফলন অনেক বেশি হয়েছে। বাজারে বর্তমানে প্রতিমণ গম ১ হাজার ২০০ টাকা দরে কেনাবেচা চলছে। এদিকে ফলন ও দাম বেশি হওয়ায় আগামীতে উপজেলায় গম চাষ আরো বাড়বে বলে আশা করছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।

উপজেলার উমার ইউনিয়নের অমরপুর গ্রামের গমচাষি মো. আব্দুল গোফ্ফার বলেন, উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে তিনি এবার বারি-৩৩ জাতের গমের বীজ ও সার সহায়তা পেয়েছেন। গত বছরও তিনি গম উত্পাদন করে বীজ সংরক্ষণ ও প্রতিমণ বীজ দুই হাজার টাকা দরে স্থানীয় কৃষকদের কাছে বিক্রি করেন। তার গ্রুপে ১৫ জন কৃষক মিলে চার একর জমিতে গম চাষ করেছেন। একর প্রতি তার ফলন হয়েছে প্রায় ৪০ মণ। বাজারে বর্তমানে প্রতিমণ গম ১ হাজার ২০০ টাকা দরে কেনাবেচা চলছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাপলা খাতুন বলেন, চলতি রবি মৌসুমে ধামইরহাটে প্রায় ১ হাজার ৫৪৫ হেক্টর জমিতে কৃষক গম চাষ করেন। অধিকাংশ জমিতে কৃষক উচ্চ ফলনশীল জাত হিসেবে পরিচিত বারি-৩০ ও ৩৩ রোপণ করেছেন। এছাড়া বারি-২৫, ২৬, ২৮, ২৯, ৩১ ও ৩২ জাতের গম চাষ করা হয়। এবার আবহাওয়া গম চাষের অনুকূলে এবং কৃষি বিভাগের সঠিক তদারকি ও পরামর্শে কোনো রোগবালাই ছিল না। তাই গমের বাম্পার ফলন হয়েছে।

বর্তমানে পুরোদমে গম মাড়াই কাজ চলছে। প্রতি একরে উচ্চ ফলনশীল বারি-৩০ ও ৩৩ জাতের গম প্রায় ৪০ মণ হারে ফলন হয়েছে। একই জমিতে আমন ধান কাটার পর গম এরপর বর্ষালী ইরি ধান চাষ সহজে করা যায়। এতে কৃষক এক জমিতে বছরে তিন ফলস ফলাতে পারছেন। এছাড়া আটটি কৃষক গ্রুপ রয়েছে। প্রতি গ্রুপে ১৫ জন কৃষককে উন্নত মানের গমের বীজ সংরক্ষণের জন্য প্রশিক্ষণ ও আর্দ্রতা মাপার যন্ত্র বিতরণসহ বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া হয়েছে। যাতে কৃষকরা এসব বীজ সংরক্ষণ করে পরবর্তী সময়ে স্থানীয় অন্য কৃষকদের কাছে বিক্রি করতে পারেন। এ প্রকল্পে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। বর্তমানে এলাকার কৃষকরা স্থানীয়ভাবে গমের বীজ উত্পাদন ও সংরক্ষণ করছেন। আগামীতে উপজেলায় গম অবাদ আরো বাড়বে বলে আশা করছি।