এসএসসি পরীক্ষার জীববিজ্ঞান

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:২৭

সুপ্রিয় বন্ধুরা নিম্নে আলোচিত বিষয়গুলো ভালোভাবে বুঝে পড়ার চেষ্টা করো।

খনিজ লবণ শোষণ

অধিকাংশ উদ্ভিদ পানির সাথে কিছু পরিমাণ খনিজ লবণ শোষণ করে, কিছু লবণ মূলরোম দিয়ে শোষিত হলেও মূলের অগ্রভাগের কোষ বিভাজন অঞ্চলই শোষণ অঞ্চল হিসেবে কাজ করে। খনিজ লবণ শোষিত হয় আয়ন হিসাবে। শোষণ প্রধানত দুই উপায়ে হয়ে থাকে, যথা-

১। নিষ্ক্রিয় শোষণ     ২। সক্রিয় শোষণ

নিষ্ক্রিয় শোষণ  : এ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের মূলরোম ইমবাইবিশন ও অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় পানি শোষণ করে, এতে কোনো বিপাকীয় শক্তির প্রয়োজন হয় না।

সক্রিয় শোষণ  : সক্রিয় শোষণে খনিজ লবণ পরিবহনের জন্য কোষে উত্পন্ন বিপাকীয় শক্তির প্রয়োজন হয়।

অভিস্রবণের গুরুত্ব : উদ্ভিদ জীবনে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তা অরিসীম। নিম্নে অভিস্রবণের গুরুত্ব আলোচনা করা হলো:

পানি পরিশোষণ : অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ মাটি থেকে পানি পরিশোষণ করে শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া সচল রাখে।

পানির চলাচল : উদ্ভিদের অভ্যন্তরে এক কোষ হতে অন্য কোষে এ প্রক্রিয়ায় পানি চলাচল করে। কোষের স্ফীতি : অভিস্রবণের মাধ্যমে কোষের স্ফীতি ঘটে, ফলে কোষ আকার আকৃতিতে বৃদ্ধি পায়।

পানির সমবণ্টন : উদ্ভিদের সমগ্র দেহে পানির সুসম বণ্টন প্রধানত অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় ঘটে থাকে।

প্রস্বেদন নিয়ন্ত্রণ : পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ রাখার মাধ্যমে অভিস্রবণ প্রক্রিয়া প্রস্বেদনের হার নিয়ন্ত্রণ করে।

বীজের অঙ্কুরোদগম : বীজের অঙ্কুরোদগমের সাফল্য নির্ভর করে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ার উপর।

সালোকসংশ্লেষণে উত্পাদিত পদার্থের পরিবহণ :উদ্ভিদ অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় মূলের সাহায্যে পানি গ্রহণ করে, সূর্যের আলোর উপস্থিতিতে বায়ু থেকে গৃহিত কার্বন ডাই অক্সাইড পানির সাথে বিক্রিয়া করে শর্করা জাতীয় খাদ্য উত্পাদন করে। এ খাদ্য উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশে চলে যায়। আর এ কাজটি সম্পন্ন হয় ফ্লোয়েমের মাধ্যমে।

ফ্লোয়েমের মাধ্যমে পরিবহণ

উদ্ভিদের  মূল ও পাতা পরস্পর থেকে দূরে অবস্থান করায় খাদ্য চলাচলে একটি দ্রুত ও কার্যকর পরিবহন ব্যবস্থা থাকা আবশ্যক। এ কাজটি ফ্লোয়েমের সিভনল করে থাকে।

১। ফ্লোয়েম পরিবহন নালিকাগুচ্ছের অন্যতম, এতে সিভনল, সঙ্গীকোষ, ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা ও বাস্টফাইবার থাকে।

২। সিভনল এক প্রকার নিউক্লিয়াসবিহীন নালীকা যা, লম্বালম্বিভাবে একটির সাথে অন্যটি যুক্ত হয়ে

উদ্ভিদ দেহে লম্বা নলের সৃষ্টি করে।

৩। দুটো নালীকার মধ্যবর্তী অনুপ্রস্থ প্রাচীরটি স্থানে স্থানে চালুনির ন্যায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্রযুক্ত।

৪। এর মধ্য দিয়ে খাদ্যদ্রব্য সহজেই এক কোষ থেকে অন্য কোষে চলাচল করতে পারে।

শীতকালে এ ছিদ্রগুলো ক্যালোজ নামক রাসায়নিক পদার্থ জমে ছোট হয়, ফলে খাদ্য চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। কিন্তু গ্রীষ্মের আগমনে ক্যালোজ গলে যায় এবং খাদ্য চলাচল বেড়ে যায়।