জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করল যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২১, ০০:১২

প্রায় ১১ দিন বন্ধ থাকার পর যুক্তরাষ্ট্রে ফের শুরু হচ্ছে জনসন অ্যান্ড জনসনের তৈরি করোনা ভাইরাসের টিকা ব্যবহার। রক্তজমাট বাধার বিরল সমস্যার ঝুঁকি বিবেচনায় এটি বন্ধ রাখা হয়েছিল। বিশেষজ্ঞ প্যানেলের পরামর্শক্রমে এর ওপর থেকে স্থগিতাদেশ তুলে নিয়েছেন মার্কিন নীতিনির্ধারকরা। এ পর্যন্ত প্রায় ৮০ লাখ মানুষ জনসনের টিকা নিয়েছেন। এদের মধ্যে রক্তজমাট সমস্যার শিকার হয়েছেন মাত্র ১৫ জন। যুক্তরাষ্ট্রের আগে ইউরোপের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থাও জনসনের টিকার ওপর থেকে বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে। চলতি মাসে ইউরোপীয় নীতিনির্ধারকরা অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকার সঙ্গে জনসনের টিকায় রক্তজমাট সমস্যার মিল খুঁজে পান। তবে তাদের মতে, এর  ঝুঁকির তুলনায় উপকার অনেক বেশি। শুক্রবার বিকেলে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) এবং খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) সিডিসির পরামর্শক প্যানেলের নির্দেশনা মেনে স্থগিতাদেশ তুলে নেয়। প্যানেলের সদস্যরা ১৮ বয়স ঊর্ধ্বদের জনসনের টিকা দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছিলেন।

এদিকে, শুক্রবার জনসনের টিকা গ্রহীতাদের মধ্যে ৯ জনের শরীরে রক্তজমাট বাধার প্রমাণ মিলেছে। এর আগে আরো ছয় জন একই সমস্যার শিকার হয়েছিলেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীদের মধ্যে সবাই নারী এবং তাদের বয়স ৫০ বছরের নিচে। এদের মধ্যে তিন জন মারা গেছেন, সাত জন এখনো হাসপাতালে চিকিত্সাধীন।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে প্রায় এক ডজন নারীর বয়সই ৩০ থেকে ৩৯ বছরের মধ্যে। সাত জন বেশি ওজন বিশিষ্ট এবং দুই জনের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা ছিল। সিডিসির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কিছু পুরুষের মধ্যেও এ ধরনের রক্তজমাট সমস্যার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তিনি জানান, জনসনের টিকা দেওয়ার আগে নারীদের এই সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়টি জানানো জরুরি। এ ধরনের সমস্যার ক্ষেত্রে টিকা নেওয়ার তিন সপ্তাহের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিতে পারে। উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছে তীব্র মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট, পা ও পেটে ব্যথা।