মোবারক মাহে রমজান

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২১, ০০:১৮

আজ ১৪৪২ হিজরির দ্বাদশ রমজানুল মোবারক। রমজানের আসল উদ্দেশ্য হলো পরহেজগার হয়ে যাওয়া। মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআনুল করিমে সুরা বাকারায় ঘোষণা করেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমাদের জন্য সিয়ামের বিধান দেওয়া হলো, যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীগণকে  দেওয়া হয়েছিল যাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পারো।’ আল কোরআনের এই আয়াত দ্বারা বোঝা যায় যে, রোজা রাখার মাধ্যমে তাকওয়া অর্জনের গুণাবলী সৃষ্টি হয়ে যাবে। এই আয়াতে লাআল্লাকুম তাত্তাকুন থেকে প্রমাণিত রোজার প্রকৃত উদ্দেশ্যেই হলো তাকওয়া অর্জন করা।

আভিধানিক অর্থে তাকওয়া শব্দটি ওকিউন থেকে এসেছে। এর এক অর্থ বাঁচা, আরো একটি অর্থ হচ্ছে ভয় করা। পারিভাষিক অর্থে আল্লাহ ও তার রাসুলের (সা.) সকল আদেশ মানা ও নিষিদ্ধ কাজসমূহ থেকে দূরে থাকা। যেমন জংগলে অনেক কাঁটা, এমনভাবে জংগলে হাঁটতে হবে যেন চলার পথে পায়ে কাঁটা না বিধে। এমনভাবে তাকওয়ার জীবন গড়তে হবে যেমন জীবন চলার পথে মুত্তাকি জীবনের আমলনামাতে কোনো কাঁটা না বিধে।

ইসলামী জীবন ব্যবস্থা হচ্ছে মুসলমানদের জন্য পঞ্চম স্তম্ভ বিশিষ্ট গৃহের মতো। আর রোজা হচ্ছে সেই গৃহের তৃতীয় স্তম্ভ। এই রোজার মাধ্যমে দেহ ও মনকে সংযমের শাসনে রেখে আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি অর্জন ও তাকওয়া অর্জনের কঠোর সিয়াম সাধনাই মাহে রমজানের মূল কাজ। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, তাকওয়া হলো আল্লাহর আদেশের আনুগত্য হওয়া। নাফরমানি না করা, আল্লাহকে স্মরণ করা, তাঁকে ভুলে না যাওয়া, আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা এবং কুফরি না করা। তুমি যে আমার নিকট থেকে দূরে সরে যাবে, আমার ভয় তোমার অন্তরে থাকবে না। তুমি তোমার পরিবারপরিজন, ধনসম্পদ, আত্মীয়স্বজন, ব্যবসা-বাণিজ্য, রাজনীতির নেশা সবকিছু থেকে যখন দূরে সরে যাবে, তোমাকে কাছে পাওয়ার জন্য হে প্রিয়, তোমার সঙ্গে আমার সম্পর্ক গাঢ় করার জন্য হে মুমিন বান্দাগণ, আমি তোমাদের ওপর বাধ্যতামূলক এই রোজা দিয়েছি। যাতে তোমাদের অন্তরে আমার ভয়ভীতি ও ভালোবাসার সঞ্চার করে নিতে পারি। বান্দার ভয় থাকলেই বান্দা আল্লাহর কাছে আসে। আল্লাহ পাকের ভয় যদি মুমিনের অন্তরে থাকে, তখন মুমিন আল্লাহর কাছে আসবেই, আল্লাহকে ভালোবাসবেই এবং আল্লাহর নিকট প্রিয় মুমিন হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করবেই।

হজরত ওমর বিন আবদুল আজিজ (রা.) বলেছেন, দিনে রোজা রাখা কিংবা রাত্রে জাগরণ করা তাকওয়া নয়, বরং তাকওয়া হচ্ছে আল্লাহ যা ফরজ করেছেন তা পালন করা এবং তিনি যা হারাম করেছেন তা থেকে দূরে থাকা।  বিশিষ্ট তাবেঈ তালাক বিন হাবিব বলেন, আল্লাহর আলোর উজ্জ্বলতায় তার হুকুমের পূর্ণ আনুগত্য ও পুণ্যের আশা করা এবং আল্লাহর বিশাল শক্তিকে ভয় করা, আর তার নাফরমানি ত্যাগ করার নাম তাকওয়া।

হজরত ওমর বিন খাত্তাব (রা.) সাহাবি উবাই ইবনে কাব (রা.)-কে তাকওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। উবাই (রা.) বলেন, হে ওমর (রা.) কাঁটাযুক্ত রাস্তায় কীভাবে চলেন? ওমর (রা.) বললেন, বেছে বেছে চলি। উবাই (রা.) বললেন, এটাই হচ্ছে তাকওয়া। তাকওয়ার এই মহান ব্রত সৃষ্টির জন্যই রমজান শরিফ আসে প্রতি বছর। রাসুল পাক (সা.) বলেন তাকওয়া বিহীন রোজা গ্রহণযোগ্য নয়।

তাক্বওয়া অত্যন্ত উঁচু স্তরের মহামূল্যবান একটি গুণ এবং সব কাঙ্ক্ষিত গুণের সমষ্টিও বটে। যার মধ্যে তাকওয়ার গুণ রয়েছে তাকে আল্লাহ পাক দুনিয়া ও আখেরাতের সব কল্যাণের জামানত দান করেছেন। আর এই তাকওয়া অর্জনকারী মুত্তাক্বিনদের জন্য এমন বেহেশতের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে, যার প্রশস্ততার মধ্যে সমগ্র পৃথিবী ঢুকে যাবে। সুবহানাল্লাহ।

লেখক : অতিথি অনুবাদক, মক্কা আল মুকাররামাহ ও সাবেক খতিব, জাতীয় সংসদ জামে মসজিদ