সামরিক অভ্যুত্থানের পর প্রথম বিদেশ সফরে মিয়ানমারের জান্তাপ্রধান

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২১, ০০:২৮

সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্য বিদেশ সফরে গেলেন মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং। শনিবার ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় আসিয়ানের সম্মেলনে যোগ দেন তিনি। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের এই সম্মেলনে ১০ দেশের নেতারা যোগ দেন। এই সম্মেলনে মিয়ানমার সংকট নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে। ২০২০ সালের নির্বাচনে ভোটার তালিকায় জালিয়াতির অভিযোগে চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে নেয় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে মিয়ানমারে শুরু হয় ব্যাপক বিক্ষোভ। এই বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ৭০০-র বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ফলে ব্যাপক আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রয়েছে দেশটি।

এদিকে, সহিংসতা বন্ধ করতে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হা্লইংয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন দেশের নেতারা। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মুহিদ্দিন ইয়াসিন মিয়ানমারে অবিলম্বে সাধারণ মানুষদের ওপর সহিংসতা বন্ধ ও রাজনৈতিক বন্দিদের নিঃশর্ত মুক্তির আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের শোচনীয় পরিস্থিতি অবিলম্বে থামাতে হবে।’

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো বলেন, এই পরিস্থিতি ‘অগ্রহণযোগ্য’। তিনি সেনাপ্রধানকে মিয়ানমারে সহযোগিতা পাঠানোর অনুমতি দিতে অনুরোধ করেন। বৈঠক শেষে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সেইন বলেন, ‘সেনাপ্রধান আসিয়ানের প্রতিনিধিদের মিয়ানমার সফরের অথবা মানবিক সহযোগিতা গ্রহণের বিরোধিতা করেননি।’

লি সেইন বলেন, ‘তিনি (হ্লাইং) বলেছেন, তিনি আমাদের কথা শুনেছেন, তিনি যে বিষয়গুলো উপকারী বলে মনে করেন তা তিনি গ্রহণ করবেন।’ অপরদিকে, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মিয়ানমার সংকটের সমাধান করতে আসিয়ান সম্মেলনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, মিয়ানমারকে আসিয়ান থেকে বের করে দেওয়ার দাবিও উঠেছিল। তবে জোটের সদস্যরা ঐতিহাসিকভাবে একে অন্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সাধারণত হস্তক্ষেপ করে না। জাকার্তায় সম্মেলন স্থলের কাছে বিক্ষোভকারীরা বাসন ও কড়াই নিয়ে এবং প্লাকার্ড হাতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। তাতে লেখা ছিল ‘গণতন্ত্র ফিরিয়ে দাও’, ‘আমরা সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে।’ খবর বিবিসির।