রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ৮ বছর

রানা প্লাজা ট্রাজেডি: স্বামীর স্মৃতি ও মেয়েকে বুকে আঁকড়ে বেঁচে আছেন খাদিজা

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২১, ০০:২৮

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের গৃহবধূ খাদিজা আক্তার। স্বামী রিপন বেপারীর সাথে তিনিও কাজ করতেন সাভারের রানা প্লাজার একটি পোশাক কারখানায়। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় মারা যান খাদিজার স্বামীও। মাতৃত্বকালীন ছুটিতে তখন শ্বশুর বাড়িতে ছিলেন খাদিজা।

শনিবার (২৪ এপ্রিল) সকালে গালা ইউপির গোপালপুর গ্রামের শ্বশুর বাড়িতে কথা হয় খাদিজা আক্তারের সাথে। তিনি তখন ঘরের বারান্দায় বসে কাঁথা সেলাই করছিলেন।

খাদিজা আক্তার বলেন, ‘আমরা রানা প্লাজার ৫ম তলায় একই পোশাক কারখানায় কাজ করতাম। দুজনেই ফিনিশিং সেকশনে। সেখান থেকেই আমাদের পরিচয়, পরে প্রেম। ছয় মাস প্রেমের পর ২০১২ সালের ১ মে বিয়ে হয় আমাদের। সাভারের মজিদপুর এলাকায় একটা ভাড়া বাসায় থাকতাম আমরা। বিয়ের পর খাদিজার কোল আলো করে আসে ফুটফুটে কন্যা সন্তান। খাদিজার স্বামী রিপন বেপারী মেয়ের নাম রাখেন নিপা আক্তার। মেয়েকে নিয়ে সুখে-শান্তিতে ঘর করছিলেন তারা। রানা প্লাজা ধসের ঘটনার সময় নিপার বয়স ছিল দেড় মাস।’

খাদিজা বলেন, দুর্ঘটনার আগের দিন রাতে স্বামীর সাথে শেষ কথা হয় তার। পরেরদিন খবর পেয়ে পরিবারের সবাই ছুটে যান সেখানে। দুর্ঘটনার ১১ দিন পরে তার স্বামীর লাশ পান তারা। বলতে বলতে খাদিজার চোখ জলে ভরে উঠে। কণ্ঠও ভারি হয়ে আসে।বিয়ের এক বছর পরে স্বামীকে হারিয়ে নি:স্ব হয়ে পড়ে খাদিজা। আত্মীয়-স্বজনেরা পরবর্তীতে বিয়ের কথা বললেও শিশু মেয়েকে নিয়ে খাদিজা থেকে যান শ্বশুর বাড়িতেই। স্বামীর স্মৃতি আর মেয়েকে বুকে আঁকড়ে বেঁচে আছেন তিনি।

খাদিজার শ্বশুর সিদ্দিক বেপারী বাড়ির পাশেই মুদি দোকান করেন। সেই টাকায়ই সংসার চলে তাদের। খাদিজা জানান, মেয়ে নিপা আক্তার ঝিটকার ইছামতি কিন্ডারগার্টেন-এ প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। কাঁথা সেলাই করে প্রতিমাসে ২-৩ হাজার টাকা আয় করেন খাদিজা। তবে তা দিয়ে চলতে অনেক সমস্যা হয় তাদের।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় ১ হাজার ১৩৬ জন প্রাণ হারান।
ইত্তেফাক/এমএএম