অক্সিজেন, অক্সিজেন...আমাকে অক্সিজেন দিতে পারেন? আমি আজ সকালে ঘুম থেকে উঠেছি এক স্কুল শিক্ষকের একটি ফোন কলে। তার ৪৬ বছর বয়সী স্বামী করোনা আক্রান্ত হয়ে দিল্লির একটি হাসপাতালে ভর্তি। এভাবেই একটি প্রতিবেদন শুরু করেছেন ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির ভারত করেসপন্ডেন্ট সৌতিক বিশ্বাস।
শনিবার (২৪ এপ্রিল) প্রকাশিত প্রতিবেদনে তিনি লিখেছেন, আমি নিজেকে বলি, এমন এক শহরে জীবনের আর একটি দিন যেখানে শ্বাস অনেকের জন্য বিলাসবহুল হয়ে উঠেছে। আমরা ফোনে কাজ করি, এসওএস প্রেরণ করি। মনিটরের বিপ শব্দের মাঝেই শুনি এই নারী জানান, তার স্বামীর অক্সিজেন স্যাচুরেশন সংখ্যাটি ৫৮ তে নেমে গেছে। কিছুক্ষণ পরে ৬২ এর উপরে উঠেছে। যদি সংখ্যাটি ৯২ বা তার চেয়ে কম হয়ে যায় তবে আপনার চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করার কথা।
তিনি আমাদের জানান যে এটি কিছুটা বেড়েছে। তার স্বামী এখনও কথা বলছেন এবং সচেতন। তখন ক্রিটিক্যাল কেয়ারে কাজ করা আমার এক ডাক্তার বন্ধুকে এসএমএস করি। সে আমাকে মেসেজে বলে, স্যাচুরেশন ৪০ এ নেমে গেলেও রোগীরা কথা বলে।
আমি খবরের কাগজ তুলি। একটি বিশিষ্ট বেসরকারী হাসপাতালে পঁচিশজন গুরুতর অসুস্থ রোগী মারা গেছেন। হাসপাতালগুলো বলেছে, ক্রিটিক্যাল কেয়ারে অক্সিজেনের চাপ কমে গেছে এবং অনেক রোগীকে ম্যানুয়ালি অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে।
প্রথম পৃষ্ঠায় দু'জন পুরুষ এবং একজন মহিলার সিলিন্ডার ভাগ করে নেওয়ার ছবি রয়েছে। এক ব্যক্তির ৪০ বছর বয়সী এক ছেলে কিছুদিন আগে হাসপাতালে বেডের অপেক্ষায় থাকতে থাকতে মারা গেছিলো। বেড না পেলেও সে একটি স্ট্রেচার পেয়েছিল।
এই জন্য ভারতীয়রা কৃতজ্ঞ: আপনি যদি আমার প্রিয়জনকে বাঁচানোর জন্য শয্যা বা ওষুধ বা অক্সিজেন সরবরাহ করতে না পারেন তবে কমপক্ষে তাদের মৃতদেহের জন্য একটি 'গর্নি' দিন।
বেলা বাড়ার সাথে সাথে বুঝতে পারছি কিছুই বদলায় নি। অক্সিজেন নেই বলে রোগীরা মারা যাচ্ছে। ওষুধগুলি এখনও দুর্লভ এবং কালো বাজারে। সরকার যা বলছে তা সত্ত্বেও, পরিস্থিতি খারাপ থেকে খারাপের দিকে যাচ্ছে।
ইত্তেফাক/এসএ
