তাইওয়ানে উত্পাদিত আনারসে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক আছে—এমন অভিযোগ করে চীন গত মাসে তাইওয়ান থেকে আনারস আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি চীনের একটি পুরোনো বাণিজ্য লড়াইয়ের কৌশল। কোনো দেশের বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপ না করে চীন এক্ষেত্রে সাধারণত পণ্যের ক্রটি উল্লেখ করে আমদানি আটকে দিয়ে থাকে। তাইওয়ানের ব্যাপারে চীনের সর্বশেষ পদক্ষেপ গণমাধ্যমে সাড়া ফেললেও বাস্তবে খুব একটা কার্যকর হয়নি।
তাইওয়ান থেকে ৪০ হাজার টন আনারস শেষ পর্যন্ত চীনে পৌঁছেছে। কিন্তু এ ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে চীন ও তাইওয়ানের সম্পর্কে জটিলতা কত গভীরে। চীনের নেতৃবৃন্দ সবসময়ই তাইওয়ানকে চাপে রাখতে অভ্যস্ত। তাদের আশঙ্কা তাইওয়ান যে কোনো সময়ে স্বাধীনতা ঘোষণা করতে পারে। অনেক দেশের কাছে তাইওয়ান স্বাধীন দেশ গণ্য হলেও চীন একে তাদের ছুটে যাওয়া একটি প্রদেশ মনে করে। তাইওয়ান ও চীনের মধ্যে প্রত্যক্ষ বাণিজ্যের চেয়ে পরোক্ষ বাণিজ্য বেশি হয়ে থাকে। পরোক্ষ বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মাধ্যম হিসেবে কাজ করে হংকং অথবা ম্যাকাউ। গত বছর পরোক্ষ বাণিজ্যের পরিমাণ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত হয়েছিল। করোনা ভাইরাসের ফলে গত বছর চীনের রপ্তানি আয় কমে যায়। অপরদিকে মহামারি ব্যবস্থাপনায় সাফল্যের পরিচয় দেওয়ায় তাইওয়ান এদিক থেকে চীনের চেয়ে এগিয়ে থাকে। ১৯৯০ সালের পর এই প্রথম তাইওয়ান প্রবৃদ্ধির দিক দিয়ে চীনকে টপকে যায়।
গত ৩০ বছরে চীন ও তাইওয়ানের পারস্পরিক অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা অনেক বেড়েছে। তাইওয়ান ১৯৯১ সাল থেকে এ পর্যন্ত চীনের মূল ভূখণ্ডে ১৮৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। এর ফলে তাইওয়ানের ওপর চীনের যতটা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা পাবে বলে ধারণা করা হয়েছিল সেটি হয়নি। চীন প্রযুক্তির জন্য তাইওয়ানের ওপর নির্ভরশীল। তাইওয়ান থেকে চীনে রপ্তানি করা পণ্যের বৃহত্ অংশ সর্বাধুনিক প্রযুক্তি পণ্য, যেমন—সেমি কন্ডাক্টর। কম্পিউটার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিকস সামগ্রীর প্রধান উপকরণ এই সেমিকন্ডাক্টর, যা তৈরিতে পিছিয়ে রয়েছে চীন। মার্কিন বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার জন্য চীনের পক্ষে এর উপকরণ সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই এ বিষয়ে তাইওয়ানের ওপর নির্ভর করা ছাড়া চীনের সামনে আপতত কোনো পথ খোলা নেই।
