মনের আকাশের কালো মেঘ যখন কাউকে বোঝায় জীবনের অনেক বড় অংশজুড়ে করতে হয় সংগ্রাম। আর আগামীর চিন্তা যখন কাউকে পরিণত করে, সমৃদ্ধ করে; তখন সেই মানুষটি নিশ্চয়ই ব্যতিক্রম একজন। বলছিলাম দেশের অন্যতম প্রতিষ্ঠিত ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্ট কায়সার হামিদের কথা। বর্তমানে অ্যাসিস্ট ম্যানেজমেন্ট কনসাল্টিংয়ের সিইও কায়সার হামিদ। তার প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে দেশের সব নামকরা প্রতিষ্ঠানের কনসাল্টিং সাপোর্ট দিচ্ছে সুনামের সঙ্গেই। শিক্ষাজীবনে কায়সার হামিদ বিবিএ, এমবিএ শেষে পিজিডি, রিস্ক ম্যানেজমেন্টে সার্টিফিকেশন, কেপিআই সার্টিফিকেশন, লিড অডিটর কোর্স, আইএসও ৯০০১, আইএসও ১৪০০১, আইএসও ৪৫০০১ করেছেন। তার ভিতরের উদ্যম প্রমাণ করে দেয় এবয়সের তারুণ্য পথ হারানোর নয়। তিনি পড়াশোনা করেছেন আরও বিস্তৃত আঙ্গিকে কোয়ালিটি ম্যানেজম্যান্ট, এনভায়রনমেন্টাল ম্যানেজম্যান্ট, অকুপেশনাল হেলথ অ্যান্ড সেফটি নিয়ে। গল্পটা একটু ভিন্ন, তবে অসম্ভবকে জয় করার অনুপ্রেরণায় ভাস্বর। চাকরি করেছেন মানবসম্পদ, সোশ্যাল কমপ্লায়েন্স, অডিট বিভাগে। চাকরি করেছেন বহুজাতিক কোম্পানিগুলোতেও। যার যাত্রা শুরু ২০১০ সালে জাপানিজ মারুহিসা প্যাসিফিকে। এরপর জার্মানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বায়িং হাউস টাক্কো হোল্ডিংসের কো-অর্ডিনেটর ছিলেন, ছিলেন থার্ড পার্টি অডিট ফার্ম এ.জে.এ-তে, ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এরপর বে-সিটিতে ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেন। এরপর তার মনে হলো, এটা প্রকৃত সময় নিজের ভিতরের প্রতিভা মানুষকে জানানো। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে চাকরি ছেড়ে দিয়ে ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্ট হওয়ার মতো চ্যালেঞ্জ বুক পেতে নিলেন, কারণ ছেলেটার নাম ‘কায়সার হামিদ’!
২০১৫-তে মূলধারার কনসালটেন্সি শুরু করেন বেশ পরিকল্পনা নিয়ে, দেশের আইএসও সার্টিফাইড ট্রেনারদের মধ্যে ব্যক্তি কায়সার হামিদ অন্যতম সেরা। এইচআরে চাকরির সুবাদে তার প্রচুর নেটওয়ার্কিং আর চমকপ্রদ ট্রেনিং তাকে বর্তমানে হাজির করেছে দেশের নামকরা প্রায় সব কোম্পানির কাছে। এরইমধ্যে তিনি লিড কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন জিআইজেড প্রজেক্টে, মামা নুডলসে, পল্লী বিদ্যুত্, লিংক৩, সার্কেল, কল্লোলগ্রুপ, পুষ্টি, ভলভো ব্যাটারিজ, বিডি থাই, জেড ডিটারজেন্ট, এ্যাপোলো টায়ারসহ পঞ্চাশেরও অধিক কোম্পানিতে। অডিটর হিসেবে কাজ করেছেন তিন শ’র অধিক ফার্মেই!
অসাধারণ এই সফলতার গল্প, চাকরিজীবীর উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প প্রেরণা দেয় তার আশপাশের সবাইকেই। জানালেন এই সেক্টরে রয়েছে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ। তিনি জানান, ‘৯০ শতাংশ কোম্পানি ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য আইএসও সনদ নিয়ে থাকে, কিন্তু এরমধ্যে অল্পসংখ্যক কোম্পানি আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে কাজ করছে।’ এর প্রধানতম কারণ হিসেবে কায়সার বলেন, ‘সেক্টরটিতে ভালো কনসালটেন্টের অভাব রয়েছে।’
কায়সার হামিদ বললেন, ‘আমার দেশটাকে প্রচণ্ড ভালোবাসি, আমাদের মেধাসম্পদ অনেক বেশি। আমরা ভিন্ন কিছু ভাবলে, আমাদের নিজেদের কাজের জায়গা থেকে সমৃদ্ধ করা যায় বাংলাদেশকে।’ কায়সার হামিদ আরও বললেন, ‘আমার স্বপ্ন ওয়ার্ল্ড ক্লাস ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্ট হওয়া।’ হয়তো নিকট ভবিষ্যতে হয়েও যাবেন, তবে বাংলাদেশের কায়সার হামিদ দেশের তরুণদের কাছে অনুপ্রেরণার নাম। তরুণ ও কর্পোরেট প্রফেশনালসদের জন্য তার একটি প্রতিষ্ঠানের নাম ‘অ্যাসিস্ট একাডেমি’, যা থেকে তারা এবছর ই-লাইব্রেরি চালু করবেন। তরুণদের জন্য পরামর্শ হিসেবে তিনি বললেন, ‘আমাদের যে ভিশন ২০২১-এ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়া এবং মিশন ২০৪১-এ উন্নত দেশ হওয়া, তা করতে হলে দায়িত্ব নিতে হবে আমাদের তরুণদেরই। আমরা সবাই মিলেই বাংলাদেশ। একজন তরুণকে অবশ্যই প্রথমে নির্দিষ্ট এরিয়াতে শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা অর্জন করে এই পেশায় আসতে পারেন। শুধু তরুণেরাই নন, বিভিন্ন পেশার মানুষ ও ইউনিভার্সিটির প্রফেসরেরা আসতে পারেন এই পেশায়। বিদেশে অক্সফোর্ড ও হার্ভাড ইউনিভার্সিটির প্রফেসরেরাও কনসাল্টিং করে থাকেন।’
