মেধাসম্পদ রক্ষায় অনন্য উদ্যোগ

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০১৯, ২০:১৯

মেধাসম্পদ একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ সূচক। নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও সৃজনশীল কর্মের বিকাশ নতুন নতুন ব্যবসা-বাণিজ্যের দুয়ার খুলে দেয়, সৃষ্টি করে নতুন কর্মসংস্থান, আর এতে করে মানুষের জীবন যাপনের মানোন্নয়ন ঘটে এবং অর্জিত হয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। অর্থনৈতিক উন্নয়নে মেধাসম্পদের এহেন অতীব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অনুধাবন করে, মেধাসম্পদ সংরক্ষণ, উদ্ভাবনী এবং সৃজনশীল কর্মের বিকাশে উত্সাহ প্রদান এবং এ ব্যাপারে জনসচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে ২০১১ সালে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ আইপি ফোরাম। লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশে মেধাসম্পদবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি ও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মেধাসম্পদ সুরক্ষায় জোর দেওয়া, আইনি কাঠামো সুদৃঢ় করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশীয় অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা বাড়ানো।

বাংলাদেশ আইপি ফোরাম একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, যা পরিচালিত হচ্ছে ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে, প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টিদের সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অর্থায়নে। ট্রাস্টি হিসেবে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, সচিব, ব্যারিস্টার ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীবৃন্দ। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন বাধাবিপত্তি উপেক্ষা করে মেধাসম্পদ সুরক্ষা এবং এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ আইপি ফোরাম। অংশীজনদের মেধাসম্পদ বিষয়ক আইনি সহায়তা, তরুণ ছাত্র-ছাত্রীদের মেধাসম্পদ বিষয়ে মৌলিক ধারণা প্রদান, স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের আইনি সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন যেমন বেসিস, এলসিএস গিল্ড, বামবা, চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক সমিতি এবং বাংলাদেশে ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য যেমন—জামদানি, ফজলি আম, ইলিশ মাছের সঙ্গে সম্পৃক্ত সমিতিসমূহকে তাদের মেধাসম্পদ সুরক্ষায় বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ ও সেবা প্রদান করে বাংলাদেশ আইপি ফোরাম। আইপি ফোরামের পরিচালনায় আইপি প্লাস ল ক্লিনিক লিগ্যাল এইড চালু করার মাধ্যমে ২০১৩ সাল থেকে নিয়মিত বিনামূল্যে মেধাসম্পদ ও ব্যবসা সংক্রান্ত আইনি সেবা পাচ্ছে স্টার্টআপ উদ্যোক্তারা, ফটোগ্রাফার এবং অন্যান্য সৃজনশীল পেশাজীবীরা।

আইপি ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার হামিদুল মিসবাহ বলেন, ‘আইপি ফোরামের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের ফলে মেধাসম্পদ বিষয়ে বিগত ৮/৯ বছরে ব্যাপক উন্নতি লক্ষ করা যাচ্ছে। মেধাস্বত্ব এবং এর গুরুত্ব কী—এটা এখন দেশের শহুরে তরুণ এবং বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিকরা অনায়াসে বুঝতে পারেন। সংগীতের ক্ষেত্রে মেধাস্বত্ব আইন মেনে চলার প্রবণতায় আমূল পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। সরকারি বা প্রশাসনিক কর্মকর্তারা মেধাসম্পদ রক্ষায় পূর্বের তুলনায় এখন অনেক বেশি ইতিবাচক এবং আমরা বেশ সমর্থনও পাচ্ছি।’ ব্যারিস্টার মিসবাহ মনে করেন মেধাসম্পদ রক্ষায় বাংলাদেশে আমূল পরিবর্তন সম্ভব কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন মেধাসম্পদের প্রতি আমাদের মানসিকতা এবং বিচারিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও মেধাস্বত্ব বিষয়ে আলাদা বিশেষ আদালত করা হলে মেধাসম্পদ বিষয়ের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হবে এবং এতে করে বিচার প্রার্থীরা আইনি সুরক্ষা নিতে আরও আগ্রহী হওয়ার পাশাপাশি ন্যায় বিচার সুনিশ্চিত হবে।