ক্রেতার মাস্কে আগ্রহ থাকলেও অনীহা অনেক বিক্রেতার

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২১, ২২:০৯

খুলেছে দোকান-বিপণিবিতান

ইত্তেফাক রিপোর্ট

লকডাউনে বন্ধ থাকার পর সারা দেশে খুলে দেওয়া হয়েছে দোকানপাট, শপিংমলসহ সব ধরনের মার্কেট। গতকাল রবিবার সকাল ১০টা থেকে এ দোকানপাট খোলা হয়েছে। অনেক দিন পর দোকান খোলার কারণে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পরিষ্কার-পরিছন্নতার কাজেই কেটেছে বেশির ভাগ দোকানির। বেশ কিছুদিন দোকান বন্ধ থাকায় ও করোনা সংক্রমণ বাড়ার কারণে ক্রেতা তেমন আসেনি বলে জানিয়েছেন দোকানিরা। তবে কিছু মার্কেটে ক্রেতাদের কেনাকাটা করার সময় মুখে মাস্ক দেখা গেলেও বিক্রেতাদের এ ক্ষেত্রে অনীহা দেখা গেছে। আবার অনেক দোকানদার মাস্ক ব্যবহার করলেও সেটি সঠিক জায়গায় রাখছেন না। গতকাল নিউমার্কেট, নিউ সুপার মার্কেট, চন্দ্রিমা সুপার মার্কেট, চাঁদনীচক, গাউসিয়া মার্কেট, ইস্টার্ন মল্লিকা, গ্রিন শপিংমল ও উত্তরার বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

 বেচাকেনা কম হওয়ার বিষয়ে ব্যবসায়ীরা জানান, মার্কেট খোলার পর দোকান গোছানোর পেছনেই বড় সময় যাচ্ছে। তবে ক্রেতা নেই। নিউ সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী মাহাতী আহমেদ বলেন, আমরা চেষ্টা করছি স্বাস্থ্যবিধি মেনে বেচাবিক্রি করতে। সকাল থেকে এখন পর্যন্ত এক টাকাও বিক্রি করিনি। কিছু ক্রেতা আসছেন, পণ্য দেখে চলে যাচ্ছেন। তাদের মধ্যে কেনার আগ্রহ একেবারেই কম। নিউ সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার ফটকগুলোতে মার্কেটের নিরাপত্তারক্ষীদের স্যানিটাইজার নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে আগত ক্রেতাদের এসব স্যানিটাইজার ব্যবহারে অনীহা পরিলক্ষিত হয়েছে। এছাড়া অনেক দোকান কর্মচারীকে মাস্ক ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। 

এ বিষয়ে হাসান গার্মেন্টসের মালিক তওহিদ বলেন, ‘এটা মানতে হবে যে, মার্কেটে পুরোপুরি স্বাস্থ্যবিধি মানা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা নিজেরা যতটুকু পারি মেনে চলার চেষ্টা করছি। হ্যান্ড স্যানিটাইজারের মতো সুরক্ষাসামগ্রী রেখেছি দোকানে। তবে এক্ষেত্রে ক্রেতাদের সচেতন হতে হবে। অনেক ক্রেতাই দেখি স্বাস্থ্যবিধির ব্যাপারে সচেতন না।’ নিউমার্কেটে ক্রেতা দেখা গেলেও তার সংখ্যা ছিল কম। যারা এসেছেন তারা নিতান্ত প্রয়োজনেই এসেছেন বলে জানিয়েছেন। তবে খুব শিগিগরই ক্রেতারা আসতে শুরু করবেন বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে শপিংমলে স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে প্রশাসনের তত্পরতাও দেখা গেছে। ঢাকা জেলা প্রশাসন থেকে মার্কেটগুলোতে মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে বারবার সচেতন করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ধানমন্ডি রাজস্ব সার্কেল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রবিউল আলম রবি বলেন, ‘আগে থেকে মানুষের মাস্ক পরার প্রবণতা বেড়েছে। আমরা মার্কেটের মালিক সমিতিকে বলেছি তারা যেন স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে কাজ করে। ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েই যেন মাস্ক পরিধান করে সেটি তারা নিশ্চিত করে।’

অন্যদিকে শপিংমল ও দোকানে স্বাস্থ্যবিধি মানা না হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে  হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম। একই সঙ্গে শুধু সরকার উল্লেখিত সময়েই অর্থাত্ সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখতেও সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি। গতকাল রবিবার রাজধানীর হাতিরঝিল সংলগ্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে করণীয় এক সভায় এসব কথা বলেন ডিএনসিসির মেয়র। মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘এসব খোলা থাকা দোকানে আমাদের মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করবে। অভিযানে যদি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা দেখতে পান দোকানগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করবেন ম্যাজিস্ট্রেটরা। যদি স্বাস্থ্যবিধি না মেনে দোকান চালু রাখা হয় প্রয়োজনে সে দোকান বন্ধ করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি তাকে জেল জরিমানা করা হবে।’