উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল এখনো ঘোষণা হয়নি। তবে পটিয়া উপজেলায় আগাম মাঠে নেমেছেন এখানকার সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তারা বিভিন্নভাবে লবিং শুরু করেছেন। যোগ দিচ্ছেন সামাজিক অনুষ্ঠানে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলীয়ভাবে মনোনয়ন পেতে অনেকে ইতোমধ্যে শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়াও প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি ফেসবুকসহ বিভিন্নভাবে তুলে ধরছেন। উপজেলা পরিষদে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন-পটিয়া উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ চৌধুরী টিপু, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ডা. তিমির বরণ চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রদীপ দাশ, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান নাছির আহমদ, পটিয়া পৌরসভা যুবলীগ সভাপতি ও সাবেক ছাত্রনেতা নুর আলম ছিদ্দিকী।
জানা গেছে, ২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত পটিয়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে ওই সময় নির্বাচিত হন উপজেলা বিএনপি নেতা ইদ্রিস মিয়া। ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ নেতা ডা. তিমির বরণ চৌধুরী ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন সিপিবি সমর্থিত মাজেদা বেগম শিরু। ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত পটিয়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে পটিয়া থেকে নির্বাচিত হন বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ চৌধুরী টিপু। এতে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ইসলামী ফ্রন্টের পটিয়া উপজেলার সভাপতি এয়ার মুহাম্মদ পেয়ারু, বিএনপি থেকে মহিলা ভাইস চেয়ারমান নির্বাচিত হন আফরোজা বেগম জলি।
পটিয়া উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ চৌধুরী টিপু বলেন, আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে যদি দল অংশগ্রহণ করে তাহলে তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে পুনরায় নির্বাচন করবেন। তিনি নির্বাচন করলে বিজয়ী হবেন বলে আশা করেন। দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি অংশগ্রহণ করেন। আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে তিনি নির্বাচন করতে চান। দলীয়ভাবে তিনি মোতাহেরুল ইসলাম নৌকা প্রতীক নিয়ে উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে নির্বাচন করলে অবশ্যই বিজয়ী হবেন।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রদীপ দাস বলেন, ছাত্রজীবনের শুরুতেই চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি, পরবর্তীতে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতিসহ তত্কালীন স্বৈরাচার সরকার বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছি। উপজেলার পশ্চিম পটিয়া অঞ্চলসহ সনাতনী সম্প্রদায়ের একমাত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেলে তিনি বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. তিমির বরণ চৌধুরী বলেন, উপজেলা পরিষদে তিনি ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সুনামের সঙ্গে পালন করেছেন। যার কারণে তিনি উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে এবার চেয়ারম্যান পদে লড়বেন। তবে দল যাকে মনোনয়ন দেবেন তার পক্ষে কাজ করবেন। দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান নাছির আহমদ বলেন, পটিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এবার তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে চান। দলীয় নেতা-কর্মীদের সহযোগিতায় তিনি এবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচন করতে চান। ২০০৯ সালে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেছেন। এবার তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
পটিয়া পৌরসভা যুবলীগ সভাপতি ও সাবেক ছাত্রনেতা নুর আলম ছিদ্দিকী বলেন, আমি উপজেলা নির্বাচন করার আশা ব্যক্ত করেছি। তাই উন্নত পটিয়া গড়ার জন্য পটিয়ার জনপ্রিয় সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে কাজ করার অঙ্গীকার করছি এবং আমি আশাবাদী পটিয়া তৃণমূল আমার পাশে থাকবে।
