রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পৃথক সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনজন নিহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার সকালে উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল বাঁশগাড়ী গ্রামে ও দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একই উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব সংঘর্ষের ঘটনায় কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- বাঁশগাড়ী বালুয়াকান্দি এলাকার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ছেলে তোফায়েল হোসেন (১৮), নিলক্ষা ইউনিয়নের বীরগাঁও এলাকার উসমান মিয়ার ছেলে সোহরাব হোসেন (৩০) ও গোপীনাথপুর এলাকার মৃত সোবহান মিয়ার ছেলে মো. স্বপন মিয়া (২৫)।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বাঁশগাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজুল হক ও সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা শাহেদ সরকারের সমর্থকদের বিরোধ চলে আসছিলো। এ বিরোধের জের ধরে গত মার্চে হঠাত্ অসুস্থ হয়ে মারা যান শাহেদ সরকার। এর ৪০ দিন পর গত ৩ মে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল হক। সিরাজুল হক হত্যার পর থেকে প্রতিপক্ষের ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় শাহেদ সরকার সমর্থকরা। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গতকাল শাহেদ সমর্থকরা এলাকায় ফিরলে প্রতিপক্ষ সিরাজুল হকের সমর্থকরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এসময় দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে গুলিবিদ্ধসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। এরমধ্যে চারজনকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিত্সকরা তোফায়েলকে মৃত ঘোষণা করেন। তোফায়েল সম্প্রতি বাঁশগাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থী হিসেবে নির্বাচনী পরীক্ষা শেষে ফরম পূরণ করেছে। সে শাহেদ সরকারের সমর্থক। গুরুতর আহত সুমন মিয়া (২৬), মামুন মিয়া (২৫) ও সুমন (২৬) নামে তিনজনকে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে একই উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নেও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম ও সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হকের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। তাদের সমর্থকরা আবার বাঁশগাড়ি এলাকায় বিভিন্ন পক্ষকে সমর্থন দিয়ে সংঘর্ষে অংশ নিয়ে থাকে। এরমধ্যে নিলক্ষা এলাকার তাজুল ইসলামের সমর্থকরা বাঁশগাড়ী এলাকার সিরাজুল হক সমর্থক এবং আবদুল হকের লোকজন শাহেদ সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে ইউপি চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামের সমর্থকরা বাঁশগাড়ীর সংঘর্ষের ঘটনায় অংশ নেওয়ার পর নিজ এলাকায় ফিরে প্রতিপক্ষ আবদুল হকের সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। প্রতিপক্ষের লোকজন প্রতিহত করতে গেলে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। সংঘর্ষটি দুপুর থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রথমে তাজুল ইসলামের সমর্থক সোহরাব হোসেন ও পরে আবদুল হক সরকারের সমর্থক স্বপন মিয়া নামে দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। আহত হয় কমপক্ষে ৫০ জন। এরমধ্যে ১৫/১৬ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। নিলক্ষা ইউপি সদস্য সিদ্দিকুর রহমান বলেন, একপক্ষ অতর্কিতভাবে তাদের প্রতিপক্ষের ওপর হামলা করে। পরে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এতে দুইজন নিহত ও কমপক্ষে ৫০ জন আহত হন।
নিলক্ষা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। বাঁশগাড়ীর সংঘর্ষের ঘটনার জের ধরেই তাজুল চেয়ারম্যানের সমর্থকরা আবদুল হক চেয়ারম্যানের সমর্থকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তবে সংঘর্ষটি পূর্ব পরিকল্পিত ছিল না। হঠাত্ করেই এই সংঘর্ষ। রায়পুরা থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মোজাফফর হোসেন বলেন, রায়পুরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এরই মধ্যে নিলক্ষা ইউনিয়নের প্রথমে বীরগাঁও ও পরে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে সংঘর্ষ শুরু হয়। পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলেও তা নিয়ন্ত্রণ করতে সময় লেগে যায়। পৃথক দুটি সংঘর্ষের ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন।
