আজ ১৪৪২ হিজরির চতুর্দশ রমজানুল মোবারক। রসুলে আকরাম (স.) এরশাদ করেন, যাকে মহান আল্লাহপাক সম্পদ দান করেছেন, কিন্তু সে এর জাকাত আদায় করেনি, কিয়ামতের দিন তার সম্পদকে বিষধর সাপের আকৃতি দান করে তার গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। সাপটি তার মুখের দুপাশে কামড় দিয়ে বলবে, আমি তোমার সম্পদ, আমি তোমার জমাকৃত মাল। (বুখারি ১৩২১)
ধনী ব্যক্তির ব্যাবসায়িক পণ্য এবং ঋণ ও মূল্যবান বস্তুর জাকাত :যেমন সোনা ৮৫ গ্রাম হলে জাকাত দিতে হবে। দুই. রুপা ৫৯৫ গ্রাম হলে জাকাত দিতে হবে। সোনা ও রুপার জাকাতের পরিমাণ হচ্ছে ৪০ ভাগের ১ ভাগ বা আড়াই শতাংশ। ঋণের জাকাত :সমপদ যদি ঋণ হিসেবে কোনো কোনো ধনী লোকের কাছে থাকে অথবা এমন স্থানে থাকে, যেখান থেকে তা সহজেই পাওয়া যাবে, তবে তা হাতে পাওয়ার পর বিগত সব বছরের জাকাত দেবে তা যতই বেশি হোক। ব্যাবসায়িক পণ্যের জাকাত :চারটি শর্ত পূর্ণ না হলে ব্যাবসায়িক পণ্যের জাকাত নেই, এক. পণ্যের মালিক হওয়া। দুই. তা দ্বারা ব্যবসার উদ্দেশ্যে বিনিয়োগ করা। তিন. সম্পূর্ণ পণ্যের মূল্য জাকাতের নিসাব পরিমাণ হওয়া আর তা হচ্ছে সোনা বা রুপার মধ্যে যে কোনো একটির সর্বনিম্ন মূল্য পরিমাণ। চার. বছর পূর্ণ হওয়া। এই চার শর্ত পূর্ণ হলে পণ্যের দাম থেকে জাকাত বের করতে হবে। যদি তার কাছে সোনা বা রুপার নগদ অর্থ থাকে, তবে তা ব্যাবসায়িক পণ্যের মূল্যর সঙ্গে একত্রিত করে নিসাব পূর্ণ করতে হবে। করোনাকালীন মাহে রমজানে আমরা অসহায়, গরিবদের জাকাতদানে এগিয়ে আসি। মহান আল্লাহপাক আমাদের সবার সহায় হোন, আমিন।
লেখক :অতিথি অনুবাদক, মক্কা আল মুকাররামাহ ও সাবেক খতিব,
জাতীয় সংসদ জামে মসজিদ
