ঈদের জামাত ঈদগাহে নয় মসজিদে আদায়ের অনুরোধ ধর্ম মন্ত্রণালয়ের

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২১, ০০:১৮

করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে গত বছরের মতো এবারও ঈদগাহে বা খোলা জায়গায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত আদায় না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। মসজিদে পড়তে বলা হয়েছে ঈদের নামাজ। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের নামাজ আদায়ে ১২টি শর্ত দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কয়েক দফা নির্দেশনার মাধ্যমে করোনা মহামারিতে যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় বলে জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশেষ সতর্কতামূলক বিষয়াদি অনুসরণ করে ১২টি শর্তসাপেক্ষে ২০২১ সালের পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের জামাত মসজিদে আদায়ের জন্য অনুরোধ করা হয় বিজ্ঞপ্তিতে। মসজিদে ঈদের নামাজ আদায়ে ১২টি শর্ত :১. ইসলামি শরিয়তে ঈদগাহ বা খোলা জায়গায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের জামাত আদায়ের ব্যাপারে উত্সাহিত করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সারা বিশ্বসহ আমাদের দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতিজনিত কারণে মুসল্লিদের জীবন ঝুঁকি বিবেচনা করে এ বছর ঈদগাহ বা খোলা জায়গার পরিবর্তে ঈদের নামাজের জামাত নিকটস্থ মসজিদে আদায় করার জন্য অনুরোধ করা হলো। প্রয়োজনে একই মসজিদে একাধিক জামাত করা যেতে পারে। ২. ঈদের নামাজের জামাতের সময় মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। নামাজের আগে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। মুসল্লিরা প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসতে পারবেন। ৩. অজুর স্থানে সাবান বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে। ৪. মসজিদের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সাবান-পানি রাখতে হবে। ৫. প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসা থেকে অজু করে মসজিদে আসতে হবে এবং অজু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সময় নিয়ে সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। ৬. জামাতে আসা মুসল্লিকে অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না। ৭. নামাজ আদায়ের সময় কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে অবশ্যই সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে। ৮. শিশু, বয়োবৃদ্ধ, যে কোনো অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি ঈদের নামাজের জামাতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। ৯. সর্বসাধারণের সুরক্ষা নিশ্চিতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর নির্দেশনা অবশ্যই প্রতিপালন করতে হবে। ১০. জামাত শেষে কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মেলানো পরিহার করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে। ১১. করোনা ভাইরাস মহামারি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষে মহান রব্বুল আলামিনের দরবারে দোয়া করার জন্য খতিব ও ইমামদের অনুরোধ করা যাচ্ছে। ১২. খতিব, ইমাম ও মসজিদ পরিচালনা কমিটি বিষয়গুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবেন।