থেমে নেই চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক পথে ইয়াবা পাচার

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২১, ১৪:০৪

ইয়াবা পাচার থেমে নেই চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক পথে। নিত্য-নতুন কৌশল পাল্টে ও অভিনব কায়দায় পাচারকারীরা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক পথে ইয়াবা পাচার করছে। প্রতিদিন এ সড়কের কোন না কোন অংশে ইয়াবার ছোট-বড় চালান পুলিশের হাতে ধরা পড়ছে। 

বিভিন্ন সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশে ইয়াবার এতো বেশি চাহিদা যে, মিয়ানমারের উৎপাদিত ইয়াবা টেকনাফ, উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ির  সীমান্ত পথ দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে। সড়ক পথে রয়েছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সতর্ক অবস্থান। তারপরও চোরাচালানকারীরা কৌশল পাল্টে ইয়াবা পাচার করছে। সড়ক পথে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দিয়ে চট্টগ্রাম, ফেনী ও কুমিল্লা হয়ে ঢাকাসহ অন্যান্য স্থানে চলে ইয়াবা চলে যাচ্ছে। নীল, লাল রংসহ বিভিন্ন রংয়ের ছোট প্যাকেটে ২শ ট্যাবলেট প্যাকেটজাত করে পাচার হয়। স্থানভেদে প্রতি পিস ট্যাবলেটের দাম ১৮০-৫০০ টাকা। ইয়াবা পাচারে ব্যবহার করা হচ্ছে রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ এবং দেশের যুবসমাজ ও অভাবী নারী-পুরুষকে। পাচারকারীরা কখনো যাত্রীবেশে কখনো চালকের আসনে কখনো ভিক্ষুক-প্রতিবন্ধী ও সুফি সেজে পাচার করছে। কক্সবাজার থেকে প্রাইভেট গাড়ি, হাইয়েচ-মাইক্রোবাস, দূরপাল্লার বাস, এ্যাম্বুলেন্স ও মালবাহী-লবনবাহী ট্রাক ও মিনিট্রাকের মাধ্যমে বিভিন্নস্থানে চলে যাচ্ছে।

অন্যদিকে সড়ক পথে কক্সবাজারের উখিয়া থেকে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৮টি চেকপোষ্ট রয়েছে। এসব চেকপোষ্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তীক্ষ্মদৃষ্টি থাকার পরও পাচারকারীরা কৌশল পাল্টে ইয়াবা পাচার করছে। প্রতিদিন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের হাতে ধরা পড়ছে শত শত ও হাজার হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট।
 
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, লোহাগাড়ার চুনতি চেক পোস্টসহ উপজেলার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় গত ২ মাসে প্রায় ২ লক্ষাধিক পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট ও বহু পাচারকারীকে আটক করেছে পুলিশ। এপ্রিল মাসে ২৬ তারিখ পর্যন্ত ১ লক্ষ ১৮ হাজার পিচ ইয়াবা ও মার্চ মাসে ৯০ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে পুলিশ। বেশীরভাগ ইয়াবা চালান চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কে চলাচলরত বিভিন্ন যানবাহন হতে উদ্ধার করা হয়। আটককৃতরা রোহিঙ্গা নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন এলাকার নারী-পুরুষ। সোর্সের মাধ্যমে উপজেলার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কে ইয়াবা ট্যাবলেট বহনকারীদেরকে ধরা হচ্ছে।

এ মাদকদ্রব্য থাইল্যান্ড ও মিয়ানমার থেকে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে দেশে ঢুকছে। পাচারের রুট হিসিবে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ও পাবর্ত্য অঞ্চলের সড়ক-উপসড়ক। দেশীয় চোরাচালানী ও প্রভাবশালীরা নিত্যনতুন কৌশল ও ব্যবহার পাল্টে পাচারকারীদের দিয়ে তা ছড়িয়ে দিচ্ছে তৃণমূল পর্যায়ে। এতে আক্রান্ত হচ্ছে যুব সমাজ।
 
লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ হানিফ জানান, ইয়াবা সেবনে শরীরে নানা জটিল রোগ হয়। ইয়াবায় ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ এমফিটামিন রয়েছে। এটি সেবনে কিডনি নষ্ট, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিকলাঙ্গ স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাসসহ হার্টএ্যাটাক, উচ্চ রক্তচাপ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে। এক পর্যায়ে কর্মশক্তি ও উদ্যম হারিয়ে শারীরিক-মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে জীবনের আলো নিভে যায়।
 
লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকের হোসাইন মাহমুদ জানান, মাদকদ্রব্যসহ ইয়াবার সাথে কোন আপোষ নেই। ইয়াবাসহ মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে লোহাগাড়া পুলিশের অবস্থান জিরো টলারেন্স। পাচারকারীরা যতই কৌশল করুক না কেন, পার পাবে না। উপজেলার চট্টগ্রাম-কক্সাবাজার সড়ক পথে ইয়াবা পাচার নিয়ন্ত্রণে লোহাগাড়া থানা পুলিশ সবসময় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ফলে পাচারকারীরা রেহাই পাচ্ছে না বলে তিনি জানান।

ইত্তেফাক/এসজেড