সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে ‘দুই টাকায় উপহার’

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২১, ২০:৫৯

>> সৌরভ শাহরিয়ার

 

‘ছোট ছোট বালুকণা বিন্দু বিন্দু জল গড়ে তোলে মহাদেশ সাগর অতল’— এরই বাস্তব বহিঃপ্রকাশ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘দুই টাকায় উপহার’। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে তরুণদের ছোট ছোট উদ্যোগের ফল এই ‘দুই টাকায় উপহার’। তরুণ উদ্যোক্তা মমিনুল হক রাহাতের হাত ধরে স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠনের জন্ম পুরান ঢাকায়।

রাহাতের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়া থানায় কাটে রাহাতের শৈশবকাল। ঢাকায় ফিরে দাখিল এবং উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর বর্তমানে বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ বর্ষে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি করছেন। তিনি জানান, এলাকার ছোট ভাই, বন্ধুবান্ধব মিলে আমরা কমবেশি আড্ডা দেই। ঠিক তেমনি, টং দোকানে আড্ডা দেওয়ার সময় রাহাত এবং তার এলাকার কিছু তরুণ মিলে ভাবলো— তারাও তো তাদের এলাকা থেকে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশ দাঁড়াতে পারে। প্রতিদিন যদি কিছু টাকা গরিব-দুঃখী ও মেহনতি মানুষের জন্য  জমিয়ে রাখা যায়; মাস শেষে সকলের টাকা একত্রিত করে অন্তত সমাজের এক বা দুটি পরিবারের পাশেও যদি দাঁড়াতে পারা যায়, সেটাই স্বার্থকতা।

সংগঠনের সদস্যরা মিলে প্রতিদিন ২ টাকা করে জমাবে এবং মাস শেষে সকলের কাছ থেকে টাকা একত্রিত করে সাধ্যের মধ্যে যে কয়টা পরিবারের পাশে দাঁড়ানো যায় তারা তা চেষ্টা করবে। যাদেরকে আমরা আমাদের উপহার সামগ্রী পৌঁছে দিব তাদের থেকেও আমরা ২ টাকা করে সংগ্রহ করব যাতে করে তাদের মাঝে এমন মনোভাব তৈরি না হয় যে তাদেরকে কেউ ত্রাণ দিচ্ছে। এ চিন্তাভাবনা বাস্তবে রূপ দিতে সামর্থ্য অনুযায়ী টাকা জমিয়ে ২০১৯ সালে রোজার ঈদে একটি পরিবারকে আর্থিকভাবে এবং নতুন কাপড়চোপড় দিয়ে সহায়তা করা হয়। ২০২০ সালের ২৬ মে থেকে শুরু হয় সদস্য সংগ্রহ এবং প্রচারণা এবং সেই মাসেই সকলের টাকা একত্রিত করে তারা জুন মাসে মোট ২৫টি পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সক্ষম হয়। বর্তমানে ৩৬ জন তাদের এলাকা ভিত্তিক ক্যাম্পাস প্রতিনিধি হিসেবে এবং ৫৫০ জনেরও অধিক মাসিক সদস্য হিসেবে ‘দুই টাকায় উপহার’র সঙ্গে সংযুক্ত আছেন।

কোভিড-১৯ এর সংক্রমণে যখন বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্ব স্তব্ধ, ঠিক তখন সমাজের যেসব মানুষ তাদের নিত্যদিনের খাদ্য যোগান দিতে পারছে না, তাদের দ্বারপ্রান্তে সাধ্যমতো সেবা পৌঁছে দেয় দুই টাকার উপহার। রাহাত মনে করেন, প্রত্যেকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সাধ্যমতো সমাজসেবামূলক কাজে নিজেকে সংযুক্ত করা উচিত। কারণ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র      প্রচেষ্টাই একদিন সমাজে বৃহত্ পরিবর্তন     নিয়ে আসবে।