টানা জয়ে উড়ছে কুমিল্লা

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৩৫

মাঝে পরপর দুটো ম্যাচে শূন্য করায় নিজের আত্মবিশ্বাসটা নড়ে গিয়েছিল। ৭৩ রানের ইনিংস খেলে ফিরে পেয়েছিলেন আত্মবিশ্বাস। এরপর থেকে রানেই ছিলেন। কিন্তু বড় ইনিংসের দেখা পাচ্ছিলেন না। অবশেষে গতকাল অপরাজিত ৫৪ রানের ইনিংস খেললেন তামিম।

তামিমের এই ইনিংস এবং এর আগে বোলারদের সমন্বিত পারফরম্যান্সে চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে বড় জয় পেল কাল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। এই জয়ে ১০ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে চলে এলো কুমিল্লা।

ম্যাচের শুরুতেই হানা দিয়েছিল বৃষ্টি। মেঘ মাথায় করে খেলা শুরু হয়েছিল। এক ওভার পরই সেই খেলা বন্ধ হয়ে গেল। পরে যখন খেলা শুরু হলো, তখন ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমিয়ে ১৯ ওভার করা হলো। কিন্তু বৃষ্টির পর আর কিছুতেই নিজেদের খুঁজে পাননি চিটাগংয়ের ব্যাটসম্যানরা। ওপেনার সাদমান ও তিন নম্বরে নামা ইয়াসির শূন্য রান করে ফিরে আসেন। ৪.৩ ওভারে ১৭ রান তুলতে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে স্বাগতিক দলটি। এই অবস্থায় নাজিবুল্লাহ জাদরানকে নিয়ে প্রথম প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন মোহাম্মদ শাহজাদ। কিন্তু জাদরানও ১৩ রান করে ফিরে আসেন। এরপর ক্রিস ডেলপোর্ট ৬ ও সিকান্দার রাজা ৫ রান করে ফেরেন। ১২.৬ ওভারে ৭০ রান তুলতে পারে চিটাগং ৭ উইকেট হারিয়ে। এখান থেকে কিছুটা মান বাঁচান মোসাদ্দেক হোসেন। ৮ নম্বরে নেমে এই বাংলাদেশি তরুণ ২৫ বলে ৩টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৪৩ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন।

চিটাগংয়ের ছুড়ে দেওয়া সামান্য এই লক্ষ্যে ছুটতে গিয়ে শুরুতে ধাক্কা খেয়েছিল কুমিল্লাও। দলীয় ২৫ রানে ফিরে আসেন ওপেনার এনামুল হক বিজয়। কিন্তু ফর্মে থাকা সামসুর রহমান শুভকে নিয়ে জয়ের পথে দলকে নিয়ে যান তামিম ইকবাল। শুভ ২২ বলে ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩৬ রান করে আউট হন। এরপর আবার দ্রুত ফিরে আসেন অধিনায়ক ইমরুল কায়েস। তিনি করেন মাত্র ৮ রান। তামিম ইকবালের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ১০ রানে থিসারা পেরেরা।

তামিম শেষ অবধি ৫১ বলে ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় ৫৪ রান করে অপরাজিত থাকেন।

এই ম্যাচ হারে আরও একটু ঝুলে গেল চিটাগংয়ের সুপার ফোরে ওঠার অভিযান। দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, ‘আপনি টানা তিনটি ম্যাচ যখন হারবেন, সেটা মোটেও ভালো কোনো অনুভূতি নয়। আশা করি পরের ম্যাচে আমরা ফিরে আসতে পারব। আমরা পাওয়ার প্লেতে ভালো ব্যাটিং করতে পারিনি। আপনি যখন হারতে থাকবেন, অনেক কিছুই এরকম চিহ্নিত করা যাবে।’

অন্যদিকে সেরা চার প্রায় নিশ্চিত করে ফেলা কুমিল্লার অধিনায়ক ইমরুলের কণ্ঠে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বাস। তিনি বলছিলেন, ‘আমি অবশ্যই খুব খুশি কারণ দল ভালো করছে। আমাদের বোলিং বিভাগ অসাধারণ। প্রত্যেকে আজকে দারুণ একটা দিন কাটিয়েছে। এটা ছিল পুরোপুরি একটা দলীয় পারফরম্যান্স।’

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

চিটাগং ভাইকিংস: ১৯ ওভারে ১১৬/৮ (মোসাদ্দেক ৪৩, শাহজাদ ৩৩; আফ্রিদি ২/১০, সাইফউদ্দিন ২/২৩, ওয়াহাব ২/২৩)।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স: ১৬.৪ ওভারে ১১৭/৩ (তামিম ৫৪*, সামসুর ৩৬; আবু জায়েদ ২/২৫)

ফল: কুমিল্লা ৭ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: শহীদ আফ্রিদি