চট্টগ্রাম আবাহনীকে রুখলো বিজেএমসি

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৪০

চট্টগ্রাম আবাহনীকে গোলশূন্য ড্রয়ে বাধ্য করে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) প্রথম পয়েন্টের দেখা পেল  টিম বিজেএমসি।

বিজেএমসি নিজেদের প্রথম ম্যাচে মোহামেডানের বিরুদ্ধে যোগ করা সময়ে গোল হজম করে  হারের বিস্বাদ নিয়েছিল। দ্বিতীয় ম্যাচে দশজনের দলে পরিণত হয়ে সাইফ স্পোর্টিংয়ের বিপক্ষেও একই দুর্ভাগ্য বরণ করতে হয়েছিল তাদের। অবশেষে তৃতীয় খেলায় এসে আর একই পরিস্থিতির  সম্মুখীন হতে হয়নি দলটিকে। এক পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছেড়েছে কোচ আরিফুল হক চৌধুরীর দল। 

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে গতকাল খেলার প্রথম থেকেই প্রতিপক্ষ অর্ধ থেকে বল কেড়ে নিয়ে আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা চালায় বিজেএমসি। তবে চট্টগ্রাম আবাহনীর খেলোয়াড়দের শারীরিক ফুটবলের সামনে এ কৌশল সফল হয়নি। ম্যাচের প্রথম সুযোগটি তৈরি করে বন্দরনগরীর দলটি। তৃতীয় মিনিটে বক্সের বাঁ প্রান্ত থেকে চট্টগ্রাম আবাহনীর গাম্বিয়ান ফরোয়ার্ড মমদো বাহ’র বাড়ানো পাস থেকে আওয়ালার করা শটটি অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

দশম মিনিটে সুযোগ পায় বিজেএমসি। কিন্তু বক্সের বাইরে থেকে উজবেক ফরোয়ার্ড ওটাবেকের করা শটটি অনায়াসেই নিজের আয়ত্বে নিয়ে নেন চট্টগ্রাম আবাহনী গোলরক্ষক মো: নেহাল। পরের মিনিটেই এই অর্ধের সেরা সুযোগটি পায় চট্টগ্রাম আবাহনী। কিন্তু বক্সের বাইরে থেকে সাহেদ হোসাইনের বাম পায়ের বাঁকানো শটটি প্রতিহত হয় ক্রসবারে। 

উভয় দল প্রথমার্ধে আরও সুযোগ তৈরি করেছিল। কিন্তু গোলরক্ষকদের বীরত্ব আর ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতার মিশেলে সমতায় থেকেই বিরতিতে যায় দল দুটি।

চট্টগ্রাম আবাহনীর আক্রমণে দিশেহারা বিজেএমসি দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের গুছিয়ে নেয়। শুরুতেই একটি দারুণ সুযোগ নষ্ট হয় তাদের। ডান প্রান্ত থেকে আলি আকবর কাননের ক্রসে পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন ফরোয়ার্ড আবদুল­াহ আল মামুন। এরপর কিছু সময় সুযোগ নষ্টের মিছিলে শামিল হয় চট্টগ্রাম আবাহনীও। প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার সুমন দাস বল বিপদমুক্ত করতে ব্যর্থ হলে গোলরক্ষককে একা পেয়ে যান মমদু। কিন্তু তার ডান পায়ের শটটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। 

খেলার ৭৩তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণে উঠে আবারও সুযোগ তৈরি করে বিজেএমসি। তবে চট্টগ্রাম আবাহনী গোলরক্ষক নেহালের বীরত্বে সে যাত্রায়ও গোলবঞ্চিত থাকে তারা।  ৮০ মিনিটে ওটাবেকের শটটিও অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

অন্তিম সময়ে সমতায় থাকা বিজেএমসি মোহামেডানের বিপক্ষে স্বপ্নভঙ্গের পুনরাবৃত্তি এড়াতে গোল করার চেয়ে সময়ক্ষেপণেই বেশি মনোযোগী হয়। রেফারির শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গে উল­াসে মেতে উঠে পয়েন্ট তালিকার তলানিতে থাকা দলটি। অন্যদিকে জয় দিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু করা চট্টগ্রাম আবাহনী পড়ে রইলো ড্রয়ের বৃত্তেই।