রাজু আলীমের ছবির ৫ নায়িকা

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২১, ২০:৫৪

রাজু আলীম। কবি, সাংবাদিক, পরিচালক থেকে এবার কাজ করছেন সিনেমায়। ‘ভালোবাসার প্রজাপতি’ সিনেমায় তিনি চিত্রনায়িকা পপির নায়ক হিসেবে অভিনয় করেছেন। এই সিনেমার আদ্যোপান্ত নিয়ে লিখেছেন অজেয় চৌধুরী

প্রেম, বাস্তবতা ও করোনাকালে ফ্রন্টলাইনের যোদ্ধাদের জীবনযাপন নিয়েই সিনেমার গল্প আবর্তিত হয়েছে। গল্পে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব সৌরভ ও ডাক্তার পূর্বার  প্রেম দীর্ঘদিনের। অথচ তাকে বিয়ে করে না সৌরভ। কিন্তু করোনার সময়ে কোথায় যাবেন, কার সঙ্গে থাকবেন—তাই কিছুটা বাধ্য হয়েই প্রেমিকাকে বিয়ে করেন তিনি। করোনার মধ্যে পূর্বা যখন জানায়, তার করোনা হয়েছে তখন তাকে নিজের কাছে আসতে দেয় না সৌরভ। একজন সচেতন মানুষ হিসেবে তিনি এমনটা করেন। কিছুদিনের মধ্যে ডিভোর্সসহ নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায় গল্প। ‘ভালোবাসার প্রজাপতি’ সিনেমার শুটিং শুরু হয় গত বছর। ইমপ্রেস টেলিফিল্মের প্রযোজনায় ছবিটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছেন রাজু আলীম ও মাসুমা তানি। এতে আরও অভিনয় করেছেন শিপন মিত্র, মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ শিলা, আলিশা ইসলাম, প্রিয়মনি, খালিদ মাহবুব তুর্য, তানিন তানহা, মেহেদী পলাশ, ডিজে সোনিকা প্রমুখ। সিনেমায় নন্দিতশিল্পী অণিমা রায়ের কণ্ঠে একটি রবীন্দ্রসংগীত আছে। 

সিনেমার নায়ক হওয়ার নেপথ্যের গল্প জানতে চাইলে রাজু আলীম মৃদু হাসলেন। চোখ বন্ধ করে কয়েক সেকেন্ড নিরব থাকার পর চোখ খুলে বললেন, সেই গল্পটাও বেশ মজার। তার ভাষ্যে, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির নবনির্বাচিত নির্বাহী সদস্য মাসুমা তানি আমার কাছে একদিন এসে বলল, রাজু ভাই একটা সিনেমা বানাতে চাই। ‘ভালোবাসা লকডাউন’ শিরোনামের গল্প নিয়ে তার টিমসহ বসলাম। গল্পটা পড়ে মাসুমা তানি অভিভূত হলেন। তিনি বললেন, গল্পের ডাক্তার চরিত্রটা একমাত্র পপিকে মানায়। তখন বললাম, পপির সিডিউল নেওয়ার পর সিনেমা শুরু করব। তিনি যথারীতি পপির ডিসিউল নিলেন। তারপর নায়ক ঠিক করার পালা। বলল, পপির বিপরীতে নায়কের মধ্যে কবিতা আছে, গল্প আছে, কারেক্টারাইজেশন আছে, মিডিয়া পারসোনালিটি আছে—তাই আপনাকে ছাড়া অন্য কাউকে এই চরিত্রে মানাবে না। আমি বললাম, বেশকিছু নাটকে নায়ক হিসেবে অভিনয় করেছি, তবে সিনেমায় কখনো অভিনয় করিনি। কিন্তু কে না চায়, নায়ক হতে। আমিও নায়ক হতে চাই। তাই তার যুক্তিটা মেনে নিয়ে সিনেমায় অভিনয় করলাম। ‘ভালোবাসা লকডাউন’ থেকে সিনেমার নাম বদলানো প্রসঙ্গে রাজু আলীম বলেন, প্রজাপতি ভালোবাসার প্রতীক। তাই ছবি নাম পাল্টে ‘ভালোবাসার প্রজাপতি’ দেওয়া হয়। আপনি জানেন যে, আমার গল্প, কবিতায় পরি ও প্রজাপতির ব্যবহার বেশি। আমারা ছোটবেলায় প্রজাপতি ও ফড়িং নিয়ে খেলেছি। তাদের সঙ্গেই বড় হয়েছি। প্রজাপতি তো উড়ে যায়, ধরা যায় না, ছোঁয়া যায় না। কখনো নরম, ধরলেও হাতে রং লেগে যায়। আমাকে কাছে মনে হয়েছে ভালোবাসার প্রজাপতি হিসেবে পপি শুধুই উড়ে যায়। একজন পরিচালক হিসেবে আমার মনে হয়েছে, পপি একজন প্রকৃত প্রজাপতি। ভালোবাসার প্রজাপতি।

বিগ বাজেটের এই সিনেমায় পাঁচজন নায়িকা ও চারজন নায়ক। প্রসঙ্গ উঠতেই তিনি বললেন, সিনেমায় শুধু শুধু পাঁচজন নায়িকা নেওয়া হয়নি। গল্পের প্রয়োজনে এসেছে। এই সময়ের জনপ্রিয় মডেল মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ শিলা, সে নিজের চরিত্রেই অভিনয় করেছে। একইভাবে আলিশা ইসলাম মডেল হিসেবে আসছে। আর প্রিয়মনি মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের একজন উইনার ছিল। একটি পার্টি গানে ডিজে সোনিকা অভিনয় করেছে। গানটির শিরোনাম ‘টাইম নাই’। এছাড়াও সিনেমাটিতে একটি আইটেম সং আছে। আর চারজন নায়কও গল্পের প্রয়োজনেই নেওয়া হয়েছে।

কবি, সাংবাদিক, পরিচালক, প্রযোজক, নায়ক—এর মধ্যে কোন পরিচয়ে আপনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন? জবাবে আবারও হাসলেন রাজু আলীম। এবার তিনি বলেন, একজন তরুণ সবসময় ভাবে, আমি একজন হিরো হবো। বাংলাদেশে আমার আইডল কোন নায়ক, সেটা বলছি না। আমাকে যদি কেউ বলে আপনাকে ডিক্যাপ্রিওর মতো লাগছে। কথাটা শুনতে আমার ভালো লাগবে। আসলে সিনেমা একটি ডিরেক্টর মিডিয়া। তাই ডিরেক্টর চাইলে যে কাউকে হিরো বানাতে পারে। যেমন শাকিব খান বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান হিরো। আবার কলকাতায় যখন অভিনয় করে তখন তাকে আরো ভালো লাগে। এর কারণ ডিরেক্টর। একজন ডিরেক্টরই পারেন একজন মানুষের ভেতরের  প্রকৃত নায়ককে বের করে আনতে। আবার পপির নায়ক আমি, মানুষ যে কথাটা বলে সেটাও উপভোগ করছি। এক সময় হলে গিয়ে পপির সিনেমা দেখেছি, আজ তার সঙ্গে নায়ক হিসেবে অভিনয় করছি। ভাবতে ভালো লাগছে। সিনেমাটি মুক্তি পাচ্ছে কবে? প্রশ্নটা শুনে যেন চেহারার আলো কিছুটা ম্লান হয়ে এলো। তিনি বললেন, আপনি জানেন, একটা নিউজ ভাইরাল হয়েছে ‘পপি হারিয়ে গেছে। তার নায়ক আমি। তাকে খুঁজছি।’ সিনেমাটির শুটিং প্রায় শেষ। আরও তিনদিন শুটিং ও দুদিন ডাবিংয়ে পপি সময় দিলে সিনেমাটি পরিপূর্ণ হতো। শুটিংয়ে না পেলেও পপির ডাবিং অবশ্যই লাগবে। তাকে না পাওয়ায় সব আটকে আছে। সে এসে কাজটা শেষ করলে ছবিটি এই ঈদে মুক্তি পেতে পারতো।

আগামীতে কি আরও সিনেমা বানাবেন? জবাবে তিনি বলেন, ইমপ্রেস টেলিফিল্মের কর্ণধার ফরিদুর রেজা সাগর আমাকে উত্সাহিত করেছেন সিনেমা বানাতে। তিনি প্রথমে ‘ভালোবাসার রাজকন্যা’ সিনেমাটি বানাতে সুযোগ করে দেন। এরপর ‘ভালোবাসার প্রজাপতি’ সিনেমাটি করছি। এই সিনেমা পোকাটি মাথায় ঢোকার পর আর নাটক বা টেলিফিল্ম ভালো লাগছে না। শুধু সিনেমাই বানাতে মন চাচ্ছে। সেটা ওয়েব হোক বা সেলুলয়েডের বড় পর্দায় হোক। ইতিমধ্যে ‘ছায়াবাজি’ নামের একটি সিনেমার কাজ শুরু করেছি। এরপর শুরু করব ‘জিরো ফিগার’ ও ‘বালিকা সুন্দরী’ নামের দুটি সিনেমা।

এই সিনেমাগুলোতেও কি দর্শকরা আপনাকে নায়ক হিসেবেই দেখবেন? উত্তরে রাজু আলীম বলেন, আমি এখন নিজের ভেতর একটা নায়কোচিত ভাব আনার চেষ্টা করছি। আমি বাংলা সিনেমার তথাকথিত নায়ক হতে চাই না। আমি আমার মতো ভিন্নমাত্রার একজন নায়ক হতে চাই।