এক সময়ের কুমিল্লার দুঃখ নামে খ্যাত খরস্রোতা গোমতী নদী এখনো আছে। তবে গর্জন নেই। ভূমিদস্যুর দল প্রতিদিন তার বুকের মাংসগুলো কেটে ছিঁড়ে নিয়ে যায়। উত্সস্থল থেকে আগের মতো জলরাশি প্রবাহিত না হওয়ায় বর্ষা ও খরা সব সময়ই থাকে মরা মরা ভাব। গোমতীর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্ব থাকলেও তারা দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।
ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী কটকবাজার থেকে নদীটি কুমিল্লা জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মেঘনার সঙ্গে মিলিত হয়েছে। গোমতী নদীর অববাহিকায় পর্যটনশিল্প গড়ে ওঠার অপার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সরকারি-বেসরকারি কোনো উদ্যোগ না থাকায় পর্যটনশিল্পের অপার সম্ভাবনাময় গোমতী নদীর চর বেদখল হয়ে যাচ্ছে।
দীর্ঘ ৮৩ কিলোমিটার প্রবাহিত হওয়া গোমতী নদীর দু’তীরে ব্যক্তি মালিকানায় গড়ে ওঠা কাঁঠাল বাগান আর বিশাল চরে কৃষকদের ফলানো সবজির খেত সবুজের এক মোহনীয় দৃশ্যের অবতারণা ঘটায়। মাত্র দু’বছর আগে সদর উপজেলার টিক্কারচর, পালপাড়া ও বুড়িচং উপজেলার আলেকারচর এলাকায় নদীর ওপর নির্মাণ করা হয়েছে তিনটি পাকা সেতু। এসব স্থানে প্রতিদিন দর্শনার্থীরা ভিড় জমায়। সরকারি ছুটির দিনগুলোতে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে গোমতী নদীর দু’পাড়। নদীর দুই তীরে ব্যক্তি মালিকানায় গড়ে তোলা হচ্ছে ছোট ছোট কফিশপ। চালা ছাড়া কটেজে তৈরি করা বাঁশের বেঞ্চিতে বসে কফি কিংবা চায়ের কাপে চুমুক দিতে দেখা যায় প্রকৃতিপ্রেমীদের।
রেল ব্রিজের নিচে বড় বড় পাথর জমে নদীর গতিপথে সামান্য বাধা হয়ে ঘূর্ণিপাক তৈরি হয়ে পানির স্রোত অপূর্ব সৌন্দর্যের সৃষ্টি করে। অনেকেই নদীর পানিতে আধো ডুবে থাকা পাথরগুলোতে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্য খুঁজে ফেরেন।
কাজী খোরশেদ আলম, বুড়িচং, কুমিল্লা
