ওদের ‘স্মার্ট মেয়ে’ শিরোনামে বিজ্ঞাপন দিয়ে বায়িং হাউজে নিয়োগের পর তাদের দিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাদক সরবরাহ করা হতো। পারদর্শী হয়ে উঠলে এই স্মার্ট মেয়েদের মাদক পাচারে পাঠানো হতো বিদেশে। গত সোমবার রাজধানীর বিমানবন্দরের পাশে কাওলা এলাকা থেকে এমনই একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান চক্রের তিন নারীসহ ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কাওরান বাজারের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মোহাম্মদ মুফতি মাহমুদ খান। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, ফাতেমা ইমাম তানিয়া (২৬), আফসানা মিমি, সালমা সুলতানা, শেখ মোহাম্মদ বাধন ওরফে পারভেজ, রুহুল আমিন ওরফে সায়মন। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ৯৭০টি ইয়াবা, বেশকিছু বৈদেশিক মুদ্রা ও পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়।
র্যাব পরিচালক বলেন, টাস্কফোর্সের অভিযানে গত ১২ জানুয়ারি উত্তরা থেকে চয়েজ রহমান নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তিনি আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত। উত্তরা পশ্চিম থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলার পর ছায়াতদন্তে মাঠে নামে র্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি বলেন, গত ১৪ ডিসেম্বর ও ৩১ ডিসেম্বর শ্রীলঙ্কার কলম্বোর মাউন্ট লাভিয়ানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সূর্য মনি, জামাল উদ্দিন ও দেওয়ান রফিউল ইসলামকে ২৭২ কেজি হেরোইন ও ৫ কেজি কোকেনসহ গ্রেফতার করে। ১ মাসের মধ্যেই এত বিপুল পরিমাণে হেরোইন ও কোকেনসহ বাংলাদেশি গ্রেফতারের ঘটনায় দেশে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। পরে আন্তর্জাতিক মাদক ব্যবসায়ী চয়েজ রহমানকে আটক করে টাস্কফোর্স।
কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান আরো বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আটক ৫ জন স্বীকার করেছে তারা সংঘবদ্ধ একটি আন্তর্জাতিক মাদকপাচারকারী সিন্ডিকেটের সদস্য। বাংলাদেশে তাদের প্রধান নিয়ন্ত্রক মো. আরিফ উদ্দিন। তার আল-আমিন ফ্যাশন বায়িং হাউস নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এই ব্যবসার নামে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে মেয়েদের নিয়োগ দেওয়া হতো। এই ব্যবসার আড়ালে তিনি আন্তর্জাতিকভাবে মাদকের ব্যবসা করতেন। তার এই সিন্ডিকেটে ১৫ থেকে ২০ জন যুক্ত রয়েছ।
জিজ্ঞাসবাদে গ্রেফতারকৃতরা আরো জানায়, আরিফ, রেহানা ও আটক রুহুল আমিন রিক্রুটিং (নিয়োগ) করত। রিক্রুটিংয়ে মূলত স্বল্প শিক্ষিত ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত স্মার্ট মেয়েদের প্রাধান্য দেওয়া হতো। প্রথম ব্যবসার কাজে নিয়োজিত করলেও বিশ্বস্ত হয়ে উঠলে দেশের বিভিন্ন এলাকা তাদের দিয়ে মাদক সংগ্রহ, সরবরাহ কাজে ব্যবহার করা হতো। পারদর্শী হয়ে উঠলে তাদের বিদেশে মাদক পাচার কাজে পাঠানো হতো কথিত স্মার্ট মেয়েদের। তাদের মাদক সিন্ডিকেটের আফগানিস্তান, পাকিস্তান, চীন, মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কায় নেটওয়ার্ক রয়েছে। মাদক পরিবহনে তারা বিভিন্ন পথ ব্যবহার করে।
র্যাব জানায়, শরীয়তপুরের মেয়ে আটক ফাতেমা ২০১৬ সালে এ চক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়। তিনি দুইবার ভারতে, তিনবার চীন, ৮ থেকে ১০ বার মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কা ভ্রমণ করেছেন। শ্রীলঙ্কায় মাদক ব্যবসার জন্য তাদের ৪টি ভাড়া বাসা রয়েছে। আটক অন্যরাও মাদক পাচারে বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেছেন। তবে ফাতেমা সবচেয়ে বেশিবার বিদেশে গেছে।
