ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় জেলখানার কয়েদিদের হাতে তৈরি পণ্যের পসরা সাজিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। যা ক্রেতা-দর্শনার্থীদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে। যদিও বছরজুড়ে এসব পণ্য কারাগারের বিক্রয়কেন্দ্রে পাওয়া যায়। তবে বাণিজ্য মেলায় একই ছাদের নিচে সব পণ্য একসাথে পাচ্ছেন ক্রেতারা। এবারের মেলায় ৬৪ কারাগারের প্রায় ২৮০টি পণ্যের পসরা সাজানো হয়েছে। কারাপণ্যের প্রচার ও প্রসারের জন্য এসব পণ্যের প্রদর্শনী ও বিক্রয় করা হচ্ছে বলে জানান বিক্রেতারা।
বাণিজ্য মেলার ভিআইপি গেট থেকে প্রবেশ করে হাতের ডানের প্যাভিলিয়নে পাওয়া যাচ্ছে কারাপণ্য। পণ্যসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে কাঠ ও বাঁশের সংমিশ্রণে তৈরি চেয়ার, বেতের চেয়ার, বাঁশের চেয়ার, টেবিল, চায়ের টেবিল, আলমিরা, ড্রেসিং টেবিল, মোড়া, খাবারের ঢাকনা, সাধারণ ব্যাগ, পাটের ব্যাগ, পাটের ফাইল, ভ্যানিটি ব্যাগ, পুঁতির তৈরি মানিব্যাগ, জুতা, বিছানার চাদর, কাপড়, পাপোশ, বেকারি বিস্কুট, কৃত্রিম ফুল, ফুলের টব, মালা, রেজিস্টার খাতা, নোটবুকসহ নানা পণ্য। এছাড়া রয়েছে বিভিন্ন পোশাক, খাদ্যসামগ্রী, পুঁতি দিয়ে তেরি বিভিন্ন উপহার সামগ্রী ও তাঁত পণ্য।
কোন পণ্য কোন কারাগারে তৈরি করা হয়েছে তা উল্লেখ করা আছে পণ্যের গায়ে। দাম ২শ টাকা থেকে ৪শ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে পাটের ব্যাগ। মোড়ার দাম ৭৩০- ৮৫০ টাকা। বাঁশ ও প্লাস্টিকের সংমিশ্রণে তৈরি বড় চেয়ার পাওয়া যাচ্ছে ২ হাজার টাকা থেকে ৩ হাজার টাকার মধ্যে। ফেন্সী কুলার দাম ১৬৪ টাকা থেকে ২০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া ক্রেতারা সবচেয়ে বেশি পছন্দ করছেন সিংহাসন চেয়ার। দাম আড়াই হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা। প্যাভিলিয়নের অন্যান্য পণ্যের মধ্যে ফুল ও ফলের ঝুড়ি মিলছে ১০০ থেকে ২৫০ টাকায়। পানদানি এবং কমলদানি ও ফুড কভার ৩০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য পণ্যের মধ্যে টি-শার্ট মিলছে ২০০ থেকে ৫০০ টাকায়। নকশিকাঁথা আড়াই হাজার থেকে ৪ হাজার টাকায়। বুটিক ও বাটিকের থ্রিপিস ৫০০ থেকে দেড় হাজার টাকায়। গামছা ও লুঙ্গি ২০০ থেকে ৫০০ টাকায়। বেডশিট ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েদিদের কাঠের তৈরি খাট ২২ হাজার টাকায়, আলমারি ও ওয়্যারড্রব ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায় এবং ড্রেসিং টেবিল ১০ থেকে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দায়িত্বরত কর্মকর্তা মো. রুবেল জানান, কারাগার এখন আর বন্দিশালা নয়, সংশোধনাগার। কারাগারের কয়েদিদের প্রশিক্ষণ দিয়ে পণ্য উত্পাদনে যুক্ত করা হচ্ছে। কয়েদিরা কারাগার থেকে মুক্ত হলেও যেন কাজের মধ্যে যুক্ত থাকতে পারেন, এটাই প্রধান উদ্দেশ্য। ফলে তাদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা কমে আসবে।
