১৫ পিস ইয়াবার জন্য বন্ধুদের হাতে খুন হন সুমন

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২১, ১৪:১৩

১৫ পিচ ইয়াবার টাকা দিতে না পারায় এক সঙ্গে চলা অপর বন্ধুদের হাতে নির্মম ভাবে খুন হতে হয়েছে সুমন হোসেন (২৩) নামে এক যুবককে। ক্লুলেস এই খুনের ঘটনার এক মাসের মধ্যে রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা সূত্র জানায়, গ্রেফতার করা ৩ জন হচ্ছেন ভেটি হাজিপাড়া গ্রামের আব্দুর রউফের ছেলে জয় হোসেন (২৬), দেওয়ান পাড়ার বাবুলের ছেলে সৈকত হোসেন (২৭) ও তেঘরবিশা গ্রামের তসির উদ্দিনের ছেলে সুজাউল (৩৬)। বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান, পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভূঞা।

প্রথমে গ্রেফতার করা হয় জয় হোসেনকে। তিনি খুনের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে বৃহস্পতিবার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।  আদালতে দেওয়া জবানবন্দি মোতাবেক  এই খুনের সঙ্গে জড়িত সৈকত ও সুজাউলকে বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেফতার করা হয় বলে জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি’র উপ পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম।

জয় আদালতকে জানায়, ১৫ পিস ইয়াবার টাকা দিতে না পারায় সুমনের সঙ্গে নিজেদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিলো। বিরোধের জের ধরে ১৩ মার্চ রাতে সুমনকে বাড়ির অদূরে একটি ফলদ ও বনজ বাগানে ডেকে নিয়ে টাকা চাওয়া হয়। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে সুমনকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অন্য বন্ধুরা। খবর পেয়ে স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় সুমনকে উদ্ধার করে প্রথমে জয়পুরহাট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। এখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৭ মার্চ বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৪ মার্চ সকালে সুমনের মৃত্যু হয়।

এ ব্যাপারে ২৫ মার্চ জয়পুরহাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয় অজ্ঞাত আসামি করে। ২০ এপ্রিল মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় ডিবিকে।

মামলা তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির উপপরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম জানান, মামলাটি তদন্তের সময় মাদক নিয়ে নিজেদের মধ্যে বিরোধ চলছিল অনুসন্ধানে এমন তথ্যের সূত্র ধরে এর রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে।  গ্রেফতারকৃতরা খুন, মাদকসহ একাধিক মামলার আসামি বলেও জানান তদন্ত কর্মকর্তা। দ্রুত মামলার তদন্ত কাজ শেষ করে আদালতে পুলিশি রিপোর্ট দাখিল করা হবে বলে জানান, এস আই জাহাঙ্গীর আলম।

ইত্তেফাক/এমআর