আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনয়ন প্রত্যাশী ও তাদের বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন। রাজপথ তাদের পদভারে মুখরিত। কেউই একক প্রার্থী না দেখে এলাকায় যেতে চান না। মনোনয়ন চূড়ান্ত হলে তারা ঢাকা ছাড়বেন। এদিকে রাজধানীতে থাকতে আবাসিক হোটেলগুলোতে এখন মনোনয়ন প্রত্যাশী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা ভিড় করছেন। আবার কেউবা আত্মীয়-স্বজনদের বাসায় থাকছেন। এছাড়া মনোনয়ন প্রত্যাশীদের অনেকে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যদের বাসা-অফিসে দিনরাত দৌড়াদৌড়ি করছেন, শেষ মুহূর্তের তদবির চালাচ্ছেন।
ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে ৯-১২ নভেম্বর দলীয় মনোনয়ন ফরম বিতরণ ও জমাদান কার্যক্রম চালিয়েছে আওয়ামী লীগ। তিনশ’ আসনে ৪ হাজার ২৩ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র ক্রয় করেছেন। প্রতিটি মনোনয়ন প্রত্যাশীর সঙ্গে ১০০ থেকে দেড়শ’ কর্মী সমর্থকও ঢাকায় এসেছেন। অধিকাংশ মনোনয়ন প্রত্যাশী ও তাদের কর্ম-সমর্থকরা এখন ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছেন। অনেক প্রার্থী ঢাকঢোল, ব্যান্ড পার্টি ও সাউন্ড সিস্টেমে গানবাজনায় মেতে ওঠে বিশাল বিশাল বহর নিয়ে ফরম সংগ্রহ ও জমা দেন। এছাড়া ছিল নৌকা প্রতীক, বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি সংবলিত ডিজিটাল ব্যানার, ফেস্টুন এবং পছন্দের প্রার্থীর ছবিসংবলিত টি-শার্টও পরে এসেছিলেন অনেকে। এসব মনোনয়ন প্রত্যাশী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা এখন শেষ মুহূর্তের তদবিরে ব্যস্ত। গণভবন, ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়, সংসদীয় বোর্ডের সদস্যদের বাসা-অফিসে নিয়মিত যাতায়াত করছেন অনেকে।
এদিকে বিএনপির চিত্রও একই। ১২-১৬ নভেম্বর পর্যন্ত টানা ৫ দিন বিএনপি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন ফরম বিতরণ ও জমাদান কার্যক্রম চলে। ৩০০ আসনে প্রায় ৫ হাজার বিএনপি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। এসব মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে তাদের বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক ঢাকা ছাড়বেন না মনোনয়ন চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত। তারাও ঢাকার বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে থাকছেন। এ কারণে হোটেলগুলোতে সিট খুব কমই খালি থাকছে। এছাড়া জাতীয় পার্টিসহ (জাপা) বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা রাজধানীতে আছেন একই উদ্দেশ্যে।
