ফরিদগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ২৫

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৩৯

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুটি পরস্পর বিরোধী গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঘণ্টাব্যাপী এই সংঘর্ষের ঘটনায় সভাস্থল ও আশপাশের সড়ক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করে ও দেড় শতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়ে। এ সময় সাংবাদিক ও পুলিশসহ আওয়ামী লীগের উভয় পক্ষের প্রায় ২৫ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষের সময় বাজারের ব্যবসায়ীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। এদিকে এই সংঘর্ষের ঘটনার পর আওয়ামী লীগের নেতারা পাল্টাপাল্টি বক্তব্য প্রদান করছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্র জানায়, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের জন্যে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুসারে ফরিদগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ স্থানীয় বিআরডিবি অফিসের সামনে বিশেষ বর্ধিত সভার আয়োজন করে। সকাল ১১টায় সভা মঞ্চে ফরিদগঞ্জের সরকার দলীয় সদ্য সাবেক এমপি ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভুঁইয়া ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জাহিদুল ইসলাম রোমানসহ আওয়ামী লীগের একটি গ্রুপের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভা চলাকালীন এক পর্যায়ে উপজেলা সদরের সবুজ মার্কেটের সামনে থেকে ড. শামছুল হক ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে স্লোগান তুলে আওয়ামী লীগের ক্ষুব্ধ আরেকটি পক্ষ উক্ত সভায় অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। এসময় উভয় পক্ষে ইটপাটকেল ও কাঁচের বোতল ছুড়তে থাকে। উভয় পক্ষের মধ্যে চলে ধাওয়া -পাল্টা ধাওয়া। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলমান এই সংঘর্ষে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশের এসআই রবিউল, স্থানীয় সাংবাদিক টিপু পাঠান, জেলা পরিষদের সদস্য মো. সাইফুল ইসলাম রিপন, আওয়ামী লীগের নেতা আলী আকবর, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাড. মো. মাহাবুব আলম, আওয়ামী লীগের নেতা দেলোয়ার হোসেন ভুঁইয়া, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মাহবুব সউদ, মো. মনির হোসেন, শরিফুল ইসলাম, মো. সুমন, মনু মিয়া, নিবিড় আহম্মেদ, মাসুদ আলম, সাগরসহ ২৫ নেতাকর্মী আহত হন। আহতরা প্রথমে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে চাঁদপুর সদর হাসপাতাল থেকে চিকিত্সা নেন। এদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

এদিকে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা সভাস্থলের বাইরে থাকা সাবেক এমপি ড. শামছুল হক ভুঁইয়ার পাজেরো গাড়ি ভাঙচুর করে। একপর্যায়ে অবস্থা বেগতিক হলে বিশেষ বর্ধিত সভাটি পণ্ড হয়ে যায়। পরে সিনেমা হল মার্কেটের সামনে আরো একদফা সংঘর্ষ হয়।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পৌর শহরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ বিষয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ হারুন অর রশিদ চৌধুরী জানান, আবারো যেনো কোন সংঘাত না ঘটে সে জন্যে পৌর শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে ইটের আঘাতে ৩/৪ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে।

এ বিষয়ে পৌরসভা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মো. মাহফুজুল হক বলেন, সাবেক এমপি ড. শামছুল হক ভুঁইয়ার অসত্ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্যে জেলা আওয়ামী লীগের নির্দেশনা অমান্য করে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভা আহ্বান করে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে সভা আহ্বান করায় ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা একটি অংশের সভায় হামলা করে।

জেলা পরিষদের সদস্য ও পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম রিপন বলেন, নেত্রীর সিদ্ধান্ত অনুসারে বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়েছে। যারা বর্ধিত সভায় হামলা করেছে তারা আওয়ামী লীগের শত্রু। এই সভায় হামলা করা মানে নেত্রীর সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো।