বাংলাদেশে দুর্নীতি বেড়েছে

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৪২

বিশ্বব্যাপী দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় অবনতি হয়েছে বাংলাদেশের। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতির ধারণা সূচকে (সিপিআই) সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এবার ১৩তম (নিম্নক্রম অনুযায়ী)। ২০১৭ সালে ছিল ১৭তম। এছাড়া ১০০ স্কেলের মধ্যে বাংলাদেশ স্কোর করেছে ২৬। গত বছর এই স্কোর ছিল ২৮। এসব দিক বিবেচনায় ২০১৮ সালে বাংলাদেশে দুর্নীতি বেড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ টিআইবি’র কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশে দুর্নীতির ব্যাপকতা ও গভীরতা এখনো উদ্বেগজনক। দুর্নীতিবিরোধী রাজনৈতিক ঘোষণা থাকলেও তার বাস্তব প্রয়োগ হচ্ছে না। দুর্নীতি বিরোধী অভিযান নিম্ন এবং মধ্যম পর্যায়ে সীমাবদ্ধ, উচ্চ শ্রেণির ক্ষেত্রে তেমন দেখা যায় না। ফলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না। দুর্নীতি রোধে রাজনৈতিক সদ্বিচ্ছার পাশাপাশি কার্যকর সংসদ, দুর্নীতি দমন কমিশন ও বিচার বিভাগ জরুরি বলে জানান তিনি।

২০১৮ সালের সিপিআই অনুযায়ী ৮৮ স্কোর পেয়ে সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ ডেনমার্ক। ৮৭ স্কোর পেয়ে তালিকায় দ্বিতীয় নিউজিল্যান্ড এবং ৮৫ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে যৌথভাবে রয়েছে ফিনল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, সুইডেন ও সুইজারল্যান্ড। আর সর্বনিম্ন ১০ স্কোর পেয়ে তালিকার সর্বনিম্নে অবস্থান করছে সোমালিয়া। ১৩ স্কোর নিয়ে তালিকার সর্বনিম্নের দ্বিতীয় স্থানে যৌথভাবে রয়েছে সিরিয়া ও দক্ষিণ সুদান এবং ১৪ স্কোর পেয়ে তালিকার সর্বনিম্নের তৃতীয় দেশ হিসেবে রয়েছে যথাক্রমে ইয়েমেন ও উত্তর কোরিয়া।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান এখনো অত্যন্ত দুর্বল এবং বৈশ্বিক গড় স্কোর ৪৩ এর তুলনায় অনেক নিচে। ২০০১ থেকে ২০০৫ সালের মত সর্বনিম্ন অবস্থানে না থাকলেও বর্তমান অবস্থান নিয়ে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। তিনি বলেন, সাম্প্র্রতিক বছরগুলোতে দুই পয়েন্ট কমে যাবার বিষয়টি দ্বিতীয়বারের মতো ঘটলো, যা বিব্রতকর। 

বাংলাদেশের এই অবস্থানের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, দুর্নীতিবিরোধী রাজনৈতিক অঙ্গীকারের বাস্তব প্রয়োগ হয় না। বিশেষ করে উচ্চ পর্যায়ে যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে খুব কম ক্ষেত্রেই তাদেরকে বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। প্রশাসন ও রাজনীতিতে স্বার্থের দ্বন্দ্ব ব্যাপকভাবে বিদ্যমান রয়েছে। এছাড়া ব্যাংকিং ও অর্থনৈতিক খাতে দুর্নীতির যে বিচারহীনতা, সারাদেশে ভূমি, নদী, জলাশয় দখলের যে প্রবণতা, রাষ্ট্রীয় ক্রয় খাতে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, ক্রমবর্ধমান এবং বিব্রতকরভাবে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অর্থ পাচার এবং রাষ্ট্রীয় নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় ও প্রশাসনিক প্রভাবে দুর্নীতি কমছে না। বার্লিন-ভিত্তিক দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ১৯৯৫ সাল থেকে দুর্নীতির ধারণা সূচক প্রকাশ করছে।