রাশিয়া ও চীনের কড়া নিন্দা

ভেনিজুয়েলার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০১৯, ০১:৩৫

ভেনিজুয়েলার ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির তেল কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির মাধ্যমে মার্কিন সরকার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন জানিয়েছেন, মাদুরোর নিয়ন্ত্রণ থেকে সরে আসলে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে। রাশিয়া এবং চীন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কড়া নিন্দা জানিয়েছে। ভেনিজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী লোপেজ জানিয়েছেন, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদিতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে সেনাবাহিনী প্রাণ দিতে প্রস্তুত। এদিকে বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইদো বলেছেন, আমরা এখন স্বৈরশাসনের অধীনে। মাদুরোর পক্ষত্যাগী কিছু সেনা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অস্ত্র চেয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে গুয়াইদোর সম্পদ জব্দ ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার দাবি অ্যাটর্নি জেনারেলের। খবর সিএনএন, আল-জাজিরা ও ওয়াশিংটন পোস্টের

মাদুরোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি :যুক্তরাষ্ট্র স্থানীয় সময় সোমবার রাষ্ট্রায়ত্ত্ব তেল কোম্পানি পেট্রোলিয়াস ডে ভেনিজুয়েলার (পিডিভিএসএ) ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। বোল্টন অভিযোগ করেন, মাদুরো তেলের আয় দিয়ে নিজের ভাগ্যোন্নয়ন করেছেন। বোল্টন জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে সাতশ’ কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ হবে এবং আগামী বছর এর পরিমাণ ১১শ’ কোটি ডলারে পৌঁছাবে। সোমবার রাতে এক টেলিভিশন ভাষণে মাদুরো পিডিভিএসএ কোনো অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং বোল্টন ভেনিজুয়েলার জনগনের সম্পদ ডাকাতি করছেন। তিনি দেশের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে দায়ী করেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা ভেনিজুয়েলার অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ গুয়াইদোকে দিয়েছে। এর ফলে গুয়াইদো অনেক সম্পদের মালিক হবে যা দেশটির জনগননের জন্য ব্যয় করা হবে।

 সেনাবাহিনী মরতেও রাজি :ভেনিজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী লোপেজ বলেছেন, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে রুখতে এবং স্বাধীনতার জন্য জীবন দিতেও প্রস্তুত সেনারা। সোমবার কারাকাসে সেনাবাহিনীর এক অনুষ্ঠানে সেনা পোশাক পরিহিত লোপেজ বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেন।

গুয়াইদো যা বললেন :বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে গুয়াইদো বলেন, ভেনিজুয়েলা এখন স্বৈরশাসনের অধীনে। তিনি নতুন নির্বাচনের দাবি জানান। এর আগে তিনি সিএনএনকে বলেন, মাদুরো এবং সেনাবাহিনী ক্ষমতা ছেড়ে যদি দেশকে গণতন্ত্রের দিকে নিয়ে যেতে সহায়তা করেন তাহলে তাদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হবে। ৩৫ বছর বয়সী গুয়াইদো গত বছরের নির্বাচনকে অবৈধ উল্লেখ করে বলেন, আমরা এখন স্বপ্ন দেখছি ভেনিজুয়েলাকে পুনর্গঠন করার।

রাশিয়া ও চীনের নিন্দা :রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কড়া নিন্দা জানিয়ে প্রেসিডেন্ট মাদুরোর ওপর সমর্থন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছেন। গতকাল তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি বৈধ সরকারকে অবৈধভাবে হটানোর ষড়যন্ত্র করছে। অন্যদিকে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সামপ্রতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে নিজেদের বাণিজ্যিক স্বার্থ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গেং শুয়াং বলেন, আমরা ভেনিজুয়েলার ওপর একপাক্ষিক নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে। ইতিহাস প্রমাণ দেয়, কোনো দেশের ওপর বিদেশি হস্তক্ষেপ সমস্যাকে আরো জটিল করে, সমাধান করে না। তিনি বিশ্বের সব দেশকে সার্বভৌম দেশে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর আহবান জানান।

সামরিক অভিযান চালাবে যুক্তরাষ্ট্র!

ভেনিজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এরকম একটি সম্ভাবনার কথা মিডিয়ায় আলোচিত হচ্ছে। সোমবার জন বোল্টন হোয়াইট হাউসে একটি বৈঠকের পর উঠে যাচ্ছিলেন। এই সময় তার নোটবুকে লেখা ‘৫ হাজার সৈন্য কলম্বিয়ায়’। এর একটি ছবি তোলে বার্তা সংস্থা এপি। কলম্বিয়ার পাশেই ভেনিজুয়েলা। এখান থেকে ভেনিজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এর সত্যতা যাচাই করা যায়নি। এর আগে বোল্টন সামরিক অভিযানের হুমকি দিয়েছিলেন। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এররকম কোনো তত্পরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

অস্ত্র চায় মাদুরোর পক্ষত্যাগী সেনারা

ভেনিজুয়েলার সাবেক সৈন্য কার্লোস গুইলেন মার্টিনেজ এবং জোসু হিদালগো স্বাধীনতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অস্ত্র চেয়েছে। দেশের বাইরে থেকে সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে তারা বলেছে, স্বাধীনতার জন্য মার্কিন সেনাবাহিনীর সহায়তা প্রয়োজন। আরো অনেক সেনা সদস্যের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ আছে বলে তারা জানিয়েছে।