জবিতে বিধান না থাকলেও ছাত্র সংসদের নামে নেওয়া হচ্ছে টাকা

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৫২

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) তিন দশক ধরে ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ রয়েছে। যদিও ভর্তির সময় ছাত্রসংসদের নামে নির্ধারিত হারে টাকা নেওয়া হচ্ছে। ছাত্র সংসদ বাবদ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির সময় প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০ টাকা করে ফি নেওয়া হয়। এছাড়া ছাত্র-ছাত্রী কল্যাণ বাবদ প্রতি বছর ১০০ টাকা করে ফি নেওয়া হয়। এ টাকা যারা খরচ করবে সেই ছাত্রসংসদই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইনে নেই। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদ না থাকায় এই টাকা বিভিন্ন খাতে খরচ করছে বিশ্ববিদ্যালয়।

জানা যায়, বর্তমানে প্রতিবছর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই হাজর সাতশ’ পঞ্চাশ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ছাত্র ইউনিয়ন বাবদ ৫০ টাকা করে বছরে ১ লক্ষ ৩৭ হাজার পাঁচশ’ টাকা আয় হচ্ছে। ২০০৫ সালের ২০ অক্টোবার জগন্নাথ কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করা হয়। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১৪টি ব্যাচ ক্লাস করছে। সেই হিসেবে ছাত্রসংসদ বাবদ আনুমানিক  ১৯ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা আয় হয়েছে। তবে আদায়কৃত এ টাকা কোন খাতে ব্যবহার করা হয়েছে তাও নির্দিষ্ট করে জানাতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মুহা. ওহিদুজ্জামান বলেন, আদায়কৃত সব টাকাই উন্নয়নের স্বার্থে ব্যবহার করা হয়।

জগন্নাথ কলেজ এ ১৮ বছর ও বিশ্ববিদ্যালয় পরবর্তী প্রায় ১২ বছর ছাত্রসংসদ নির্বাচন হয়নি। জগন্নাথ কলেজ থাকাকালে প্রতি বছর পাঁচ হাজার সাতশ’ শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হতো। এসময় প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ছাত্র সংসদের নামে ২৫ টাকা ফি আদায় করা হতো। সেই হিসাবে কলেজ কর্তৃপক্ষ ছাত্রসংসদের ফি’র নামে (১৯৮৭-২০০৫) ২৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা আদায় করেছেন। ২০০৫ সালে জাতীয় সংসদে পাসকৃত  জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৫ এ ছাত্রসংসদের অধ্যাদেশটি যুক্ত করা হয়নি। তাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদ নির্বাচন আয়োজন করতে হলে আগে বিশ্ববিদ্যালয় আইনে ছাত্রসংসদ অধ্যাদেশটি যুক্ত এবং ছাত্রসংসদের গঠনতন্ত্র তৈরি করতে হবে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদ ডাকসুর নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হলে তারাও বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটে ছাত্রসংসদের আইন পাস করে আইনটি অনুমোদনের জন্য জাতীয় সংসদে পাঠাবে। বিশেষ অনুমোদন নিয়ে ছাত্রসংসদ নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করবে।