শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত মোরাতুয়া হলো কলম্বোর সবচেয়ে বড় শহরতলি। উত্তর দিকটা ছাড়া এর তিন পাশে জল। এর মধ্যে পশ্চিম দিকে ভারত মহাসাগর। পূর্বে বোলগদা লেক আর দক্ষিণে মোরাতু নদী।
মোরাতুয়া শহরটি বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের জন্য বিখ্যাত। তাদের মধ্যে আলাদাভাবে বলতে হয় রমেশ কালুভিথারানার কথা। একসময় সনাৎ জয়াসুরিয়ার সঙ্গে ওপেন করতেন তিনি। ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রথম ১৫ ওভারের মধ্যে শতরানের ঝড়ো খেলা তারাই সম্ভবত প্রথম দেখিয়েছিলেন।
মোরাতুয়ায় জন্ম নেওয়া আরও কয়েকজন ক্রিকেটারের তালিকায় আছেন দুলিপ মেন্ডিস, অজান্তা মেন্ডিস, কুশল মেন্ডিস, আভিস্কা ফার্নান্দো, লাহিরু থিরিমানে, বিশ্ব ফার্নান্দো এবং প্রবীণ জয়াবিক্রমা। শেষের তিনজন বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার চলমান টেস্টে আছেন। আর শেষের জনের এটাই প্রথম টেস্ট।
প্রবীণ জয়াবিক্রমার বয়স ২২ বছর ২১৩ দিন। বাঁ-হাতি এই স্পিনারের ঘুর্ণিতে প্রথম ইনিংসে কুপোকাত বাংলাদেশ। পাল্লেকেলে টেস্টে শ্রীলঙ্কার হয়ে অভিষেকেই ৯২ রানে ৬ উইকেট নিয়ে রেকর্ড গড়েছেন তিনি। এতদিন জায়গাটি ধরে রেখেছিলেন উপুল চন্দনা। ১৯৯৯ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৭৯ রান খরচায় ৬ উইকেট পেয়েছিলেন তিনি।

প্রথম দুই সেশনেই বাংলাদেশের মোমেন্টাম ধুলিস্যাৎ করে দিয়েছেন প্রবীণ জয়াবিক্রমা। দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সাইফ হাসান, অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম, উইকেট কিপার লিটন দাস, অলরাউন্ডার মেহেদি হাসান মিরাজ ও তাসকিন আহমেদকে বোকা বানিয়েছেন তিনি। তার কাছে ধরাশায়ী হয়ে প্রথম ইনিংসে ২৫১ রানে গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশ।
.jpg)
প্রবীণ নামের এক নবীনের ঘূর্ণিতে কুপোকাত হয়ে প্রথম ইনিংসে ২৪২ রানে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। এর মধ্যে শেষ সাত উইকেট গেছে মাত্র ৩৭ রানে। আজ তৃতীয় দিনের উল্লেখযোগ্য দিক এটাই। সকালে ৭ উইকেটে ৪৯৩ রানে ইনিংস ঘোষণার আগে মাত্র ৩.৩ ওভার খেলেছে শ্রীলঙ্কা। এরপরই শুরু হয় প্রবীণ শো! তার একেকটি বল যেন ছিল একেকটি জাল, যে জালে কাবু হয়ে ধরা দিয়েছেন বাংলাদেশের বেশিরভাগ ব্যাটসম্যান।
সফরকারীদের ফলোঅনে না ফেলে পাহাড়সম লক্ষ্য দিতে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৭ রানের মধ্যে ২ উইকেট হারিয়েছে স্বাগতিকরা। মেহেদি হাসান মিরাজের বলে থিরিমানে এবং তাইজুল ইসলামের বলে ওশাদা ফার্নান্দো সাজঘরে ফিরেছেন। তৃতীয় দিন শেষে ২৫৯ রানে পিছিয়ে মুমিনুল হকের দল। এর মূল কৃতিত্ব প্রবীণের। মাঠে তার সাদা পোশাকটা ধুলোবালিতে জর্জরিত হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু বোলিং ফিগার ঠিক উল্টো- পুরোটাই রঙিন!
ইত্তেফাক/জেএইচ
