গত বছর মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় বেশ সফল হয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া। কিন্তু চলতি বছর দেশটিতে আবারও ভাইরাসটির সংক্রমণ বেড়ে গেছে। এমতাবস্থায় দেশটির অধিকাংশ নাগরিকই সরকারকে দোষারোপ করছেন। তারা বলছেন, এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত পরিমাণে ভ্যাকসিন সরবরাহ করতে পারেনি সরকার। এ কারণে কোভিড-১৯ এর প্রভাব রোধ করা সম্ভব হয়ে উঠেনি।
দক্ষিণ কোরিয়ার কেন্দ্রীয় বিপর্যয় পরিচালনা সদর দফতর এবং কেন্দ্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ সদর দফতর অনুযায়ী, গত ২৭ এপ্রিল দেশটিতে নতুন করে ৭৭৫ জনের শরীরে কোভিড-১৯ শনাক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে টানা সাত দিনের মতো ৭ শতাধিক রোগী শনাক্ত হলো। আর শনাক্তকৃত মোট রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ২০ হাজার ৬৭৪ জন।
দ্য ডিপ্লোমেট তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার জনগণ তাদের সরকারের মহামারি নীতিতে হতাশ ব্যক্ত করেছেন। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, মহামারি মোকাবিলায় প্রথমবারের মতো ইতিবাচক থেকেও নেগেটিভ প্রতিক্রিয়া বেশি পাচ্ছে দেশটির সরকার। প্রায় ৪৯ শতাংশ কোরিয়ান নাগরিক বর্তমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে অস্বীকার করেছে। তাদের মতে, সমস্যাটা খুবই স্পষ্ট। সরকারের ভ্যাকসিনেশন প্রোগ্রাম প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুততার সহিত এগাচ্ছে না।
সাধারণভাবে বলতে গেলে, দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার ধীরে ধীরে ভ্যাকসিন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অবস্থা এমন যে, দেখো এবং অপেক্ষা করো, এই নীতিতে চলছে তাদের পদক্ষেপ। সরকারে লক্ষ্য, আগামী নভেম্বরের মাঝে ৭০ শতাংশ নাগরিককে ভ্যাকসিনেশনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। তবে এখন পর্যন্ত মাত্র ৪ শতাংশ মানুষ নাগরিক ভ্যাকসিন পেয়েছেন। যা মোট ৫১ মিলিয়ন জনসংখ্যার মধ্যে ২ দশমিক ২ মিলিয়ন।
গত সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ফাইজারের ভ্যাকসিনের জন্য চুক্তি করেছে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার। তার আগে গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন ইমিউনাইজেশনের (জিএভিআই) নেতৃত্বে মহামারি প্রস্তুতি ইনোভেশনস (সিইপিআই) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লুএইচও) যৌথ উদ্যোগে প্রস্তাবিত কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনস গ্লোবাল অ্যাক্সেস (কোভ্যাক্স) প্রকল্পে যুক্ত হয় তারা।
কিন্তু কোভ্যাক্স থেকে এখন পর্যন্ত তেমনভাবে লাভবান হয়নি দক্ষিণ কোরিয়া। এমতাবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, প্রতিবেশি চীনের প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদিত ভ্যাকসিন কেনো নেয়নি তারা। অবশ্য সম্প্রতি বেইজিংয়ে নিযুক্ত সিউলের রাষ্ট্রদূত চীনা ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন। এমনকি তিনি এটাও বলেছেন যে, যদি দক্ষিণ কোরিয়ায় চীনা ভ্যাকসিনের অনুমোদন থাকতো তাহলে তিনি সেখানে টিকা নিতেন। তবে এখনো চীনা ভ্যাকসিন নেওয়ার ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সিউল। তারা যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই ভরসা করছে।
ইত্তেফাক/টিএ

