নাব্যতা ফিরিয়ে এনে উত্তরের তিনটি জেলার মৃতপ্রায় চারটি নদীর প্রাণ প্রবাহ ফেরাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) আড়াই হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প গ্রহণ করেছে। ওই প্রকল্পের মাধ্যমে বগুড়া, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ জেলার মধ্যে প্রবাহিত ২১৭ কিলোমিটার বাঙ্গালী, করতোয়া, ফুলজোড় ও হুরাসাগর নদী খনন করা হবে। একই সঙ্গে তীর সংরক্ষণ করে নদী ভাঙ্গন থেকে জনপদ রক্ষা করা হবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নদীর দুই পাড়ে সবুজ বনায়নও সৃজন করা হবে।
‘বাঙ্গালী-করতোয়া-ফুলজোড়-হুরাসাগর নদী সিস্টেম ড্রেজিং/পুনঃখননসহ তীর সংরক্ষণ’ নামে পাউবোর গৃহীত ২ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকার প্রকল্পটি গত বছর ৭ নভেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির বৈঠকে (একনেক) অনুমোদন পায়। ৪ বছর মেয়াদী প্রকল্প বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই টেন্ডার আহবান করে ঠিকাদার নিয়োগ করা হবে বলে পাউবো সূত্রে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মৃতপ্রায় হয়ে যাওয়া নদীগুলো খননের পর আগের সেই স্রোতস্বিনী চেহারা ফিরে পাবে। কৃুষিকাজে বিপ্লব আসবে, মত্স্য সম্পদের উন্নয়ন হবে, নৌ যোগাযোগ সচল হবে এবং নদীকেন্দ্রিক কর্মচাঞ্চল্য বাড়বে। নদী খনন প্রকল্পের খবরে তীরবর্তী এলাকার মানুষের মাঝে বইয়ে অন্যরকম আনন্দের বন্যা।
পাউবো সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটাখালি ও এলাই নদীর মিলনস্থল থেকে বাঙ্গালী নদীর উত্পত্তি। এরপর এই নদী উত্তর থেকে দক্ষিণে বগুড়ার সোনাতলা, সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়ে শেরপুর উপজেলার খনিপুরে করতোয়া নদীর সাথে মিলেছে। এখানে নদীটির নাম হয়েছে করতোয়া। এরপর করতোয়া সিরাজগঞ্জের নলকায় ফুলজোড় নাম ধারণ করে শাহজাতপুর উপজেলার বাঘাবাড়ির দক্ষিণে হুরাসাগরে পড়েছে। এরপর হুরাসাগর নাম ধারণ করে যমুনায় মিলে গেছে। উত্পত্তিস্থলে নদীটির গড় প্রশস্থতা ৯০ মিটার আর ভাটির প্রান্তে ২শ’ মিটার। প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ৩ থেকে ৫ মিটার পর্যন্ত গভীর করে খনন করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ধীরে ধীরে নদীগুলোর তলদেশ ভরাট হয়ে পানি প্রবাহ ও ধারণ ক্ষমতা কমে গেছে। পলি জমে ভরাট হওয়ায় অনেক জায়গায় নদীর বুকে ফসল চাষ হচ্ছে। ফলে বর্ষাকালে সহজেই দুকূল ছাপিয়ে বন্যা সৃষ্টি হয়ে ফসল ও জানমালের ক্ষতি হয়। আবার শুস্ক মৌসুমে নদী পানি শুন্য হয়ে পড়ে। ফলে খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এসব সমস্যা দূর হবে। নদী ফিরে পাবে তার হারিয়ে ফেলা গতিপথ।
