মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ
কথার যৌক্তিক যুদ্ধে কোনো বিষয়ের ওপর যুক্তি, তথ্য ও উপাত্তের ভিত্তিতে চুলচেরা বিশ্লেষণই হলো বিতর্ক। আর প্রতিপক্ষকে সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা করে যৌক্তিক গঠনমূলক ও প্রজ্ঞাপূর্ণ বিতর্ক উপস্থাপন করাই হচ্ছে একজন বিতার্কিকের প্রধান কাজ। প্রাচীনতম বিতর্কচর্চার এই শিল্পের প্রচার-প্রসারে ‘যুক্তির সৃজন, প্রকৃষ্ট প্রশাসন’ এই স্লোগানকে সামনে নিয়ে জ্ঞান এবং যুক্তিভিত্তিক প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রয়াসে প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই কাজ করে যাচ্ছে ‘ডিবেট হাউজ অফ পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়’। এরই ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে ডিএইচপি আয়োজন করে আন্তঃবিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতা ‘League Of Legacy 1.0’। বিতর্কের মঞ্চে নিজের বিভাগকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করার একটি চমত্কার সুযোগ করে দেয় ডিবেট হাউজ অফ পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা মোট ১৬টি টিমের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত বিচারকদের রায়ে চ্যাম্পিয়ন হয় অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস ডিবেটিং ফোরাম (এআইএসডিএফ)। ফাইনালে ফিন্যান্স ডিবেটিং ক্লাবের মুখোমুখি হয়েছিল তারা। বিতর্কের বিষয় ছিল: বর্তমান প্রশাসনিক শিষ্টাচার (আচরণ, কার্যক্রম, প্রভাব) আগামীর রাজনীতির জন্য চ্যালেঞ্জ। বিতর্কে নির্ধারিত বিষয়ের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে এআইএসডিএফ এবং বিপক্ষে অবস্থান করে ফিন্যান্স ডিবেটিং ক্লাব। করোনার কারণে পুরো প্রতিযোগিতাটি অনলাইনে সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে ‘ডিস্কর্ড’ সার্ভারের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিযোগিতায় প্রধান বিচারক ছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহিদুল ইসলাম মাহিম।
অনুভূতি প্রকাশ করে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী দল এআইএসডিএফের সভাপতি ময়না আক্তার বলেন, ‘বিতর্ক একটি ভালো লাগার জায়গা, ভালোবাসার জায়গা। আর এই ভালোলাগার জায়গায় সফলতা পেলে আনন্দের সীমা থাকে না। এআইএসডিএফ হলো আমার ভালোবাসার কেন্দ্র। এআইএসডিএফের জন্য চ্যাম্পিয়ন ট্রফি এবং সেই সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে টুর্নামেন্টের সেরা বিতার্কিক হ?ওয়ার গৌরব অর্জন করার আনন্দ প্রকাশ করার সঠিক বাক্য খুঁজে পাওয়া দায়।’
সাফল্যের ব্যাপারে এআইএসডিএফ টিমের আরেক সদস্য আতাউর রহমান বলেন, ‘এই গৌরব অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস ডিপার্টমেন্টের গৌরব, এআইএস ডিবেট ফোরামের গৌরব। রোজা রেখেও তিন জন তিন জনের সেরাটা দিয়ে বিতর্ক করতে পেরেছি এবং ভাগ্য সহায় ছিল। সর্বোপরি ডিএইচপির এত সুন্দর আয়োজনকে সাধুবাদ জানাই।’
চ্যাম্পিয়ন টিমের আব্দুল ওয়াহাব বলেন, ‘নবিস বিতার্কিক হিসেবে বিতর্ক করতে এসে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কীর্তি অর্জন করা নিঃসন্দেহে গর্বের। সেই সঙ্গে এআইএসডিএফ সর্বোপরি ডিপার্টমেন্টকে রিপ্রেজেন্ট করে সম্মানিত করাটাও কম আনন্দের না।’
সফলভাবে প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করতে পেরে মাহবুবুল আলম হাদী বলেন, ‘বিতর্ক চর্চার ধারাবাহিকতায় মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর আলোয় রাঙাতেই এবার প্রথম আন্তঃবিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়। এবারের আয়োজনটা আমাদের কাছে একটু অন্য রকমই ছিল। ধারাবাহিক বিতর্ক চর্চার এই আয়োজনে অংশগ্রহণের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে।’
