সরকারের সহযোগিতার ৫ শতাংশ ছিল ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য। এখানেই নারী উদ্যোক্তারা আবেদন করেন। কিন্তু আবেদন আর প্রাপ্তি নিয়ে দ্বিমত আছে অনেক উদ্যোক্তা আর নেতাদের মধ্যে। আগামী বাজেটে নারী উদ্যোক্তাদের কথা মাথায় রেখে বিশেষ ব্যবস্থার ওপর জোর দেন সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বিজ্ঞজনেরা। —রাবেয়া বেবী
ডা. মালেকা বানু
সাধারণ সম্পাদক
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ
চায়ের দোকান থেকে শুরু করে মাছ চাষ অনেক রকম কাজ নারী উদ্যোক্তারা করছিলেন। তাই তাদের কাছে যেন সহযোগিতা যায় সে ব্যবস্থা করতে হবে। সহজ করতে হবে সহযোগিতা গ্রহণ পদ্ধতি। মোবাইল ফোনে টাকা দেওয়া, অনলাইনে ব্যবসা করতে সহযোগিতা করা—সব বিষয়ই গুরুত্ব দিতে হবে। একটা থোক বারাদ্দ ছিল, গত বছর সেটা ছিল না।
বলা হয় এটা নারী উদ্যোক্তারা ব্যবহার করতে পারেন না। আসল কথা হলো নারী উদ্যোক্তা যেন বরাদ্দের টাকা পান সে ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা একটা মহামারির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। টিকে থাকা দায়। টিকে থাকতে নারী উদ্যোক্তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী করতে হবে। প্রান্তিক নারীরা উদ্যোক্তা হয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তারা যেন হারিয়ে না যান, সেদিকে নজর দিতে হবে।
সেলিমা আহমেদ এমপি
সভাপতি
উইমেন চেম্বারস অ্যান্ড কর্মাস ইন্ডাস্ট্রি
এই বাজেটে প্রান্তিক নারী উদ্যোক্তাদের কথা মাথায় রেখে বরাদ্দ করতে হবে। আমরা যদি বলি প্রণোদনার ৫ শতাংশের বেশি নারী উদ্যোক্তারা পেয়েছেন, তাহলে আমার প্রশ্ন হবে, কোন নারী উদ্যোক্তারা। যারা ঢাকায় স্বামীর সঙ্গে ব্যবসা করছেন, ডিরেক্টরের পদ আছে; স্বামীই ব্যবসা দেখেন, স্ত্রীদের নামে লাইসেন্স আছে—তারা? আমরা তাদের কথা বলছি না। আমরা একবারে প্রান্তিক নারী উদ্যোক্তাদের কথা বলছি। তাদের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নির্দিষ্ট করে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের দায় আছে। আমরা এ বছর ২০০ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ চাই। ১০০ কোটি টাকা তারা ব্যবসার জন্য ঋণসুবিধা নেবেন। আর ১০০ কোটি টাকা দিয়ে আমাদের মতো সংগঠন, এসএমসি ফাউন্ডেশন নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দেবে।
সঙ্গীতা আহমেদ
সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট
উইমেন চেম্বার অ্যান্ড কর্মাস ইন্ডাস্ট্রি
বরাবরই সবাই ঋণের জন্য আবেদন করতে পারে না। আবার আবেদন করেও সব নারী উদ্যোক্তা ঋণ পান না। আমাদের প্রান্তিক অনেক নারী উদ্যোক্তা আছেন যারা হাঁস-মুরগি পেলে, মাছ চাষ করে অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। কিন্তু তাদের রেজিস্ট্রেশন নেই। তারা ঋণের জন্য আবেদন করতে পারেন না। তাদের জন্য বরাদ্দ দরকার।
তাদের অবস্থা গত বছরের চেয়ে এ বছর আরো খারাপ। আমরা ভেবে ছিলাম এবার ব্যবসা হবে কিন্তু এ বছরও ব্যবসা নেই। তাই অনেকে হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম, যা আমাদের জন্য ক্ষতিকর। নারীর জন্য ৫ শতাংশ নয়, ১২ শতাংশ বরাদ্দ চাই। প্রথম বছর ৪ শতাংশ সুদ নয়, পরপর দুই বছর ৪ শতাংশ সুদ হবে। আর সুদ নেওয়া হবে ছয় মাস পর থেকে।
