২০১০ সালে আয়কর মেলা শুরু হওয়ার পর থেকে প্রতি বছরই মেলায় করদাতা বাড়ছে। লাখ লাখ মানুষ কর মেলায় এসে সেবা নিচ্ছেন। তবে গত দুই তিন বছর ধরে আয়কর মেলায় তরুণ করদাতা বাড়ছে উল্লেখযোগ্য হারে। দুই বছর আগে বাজেটে বেতনভোগীদের মধ্যে মূল বেতন ১৬ হাজার টাকা হলে টিআইএন নেওয়া ও রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক হওয়ায় অনেক তরুণ চাকরিজীবী রিটার্ন দাখিলের আওতায় চলে আসেন। আবার অনেক তরুণ ব্যবসায়ীও এখন আয়করের খাতায় নাম লিখিয়েছেন। এর সত্যতা মিলেছে গতকাল রাজধানীর বেইলী রোডের অফিসার্স ক্লাবের আয়কর মেলায়ও। সরেজমিন মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে আসা করদাতাদের বড় অংশই তরুণ করদাতা। ৪০ বছর বয়সের নিচে করদাতাদের তরুণ করদাতা হিসেবে বিবেচনা করে এনবিআর।
গতকাল রাজধানীর মিরপুর থেকে মেলায় কর দিতে এসেছেন একটি বেসরকারি ব্যাংকের চাকরিজীবী ইকবাল হোসেন। বয়স ত্রিশের কোঠায়। ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে তরুণ তিনি বলেন, গত চার বছর ধরেই তিনি আয়কর রিটার্ন জমা দিচ্ছেন। প্রতিবারই তিনি আয়কর মেলায় রিটার্ন জমা দিচ্ছেন। নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি বলেন, এখানে (আয়কর মেলায়) ঝামেলামুক্তভাবে রিটার্ন জমা দেওয়া যায়। প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় না। কিন্তু কর অফিসে রিটার্ন জমা দিতে গেলে নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। হয়রানি করা হয়। সহযোগিতা পাওয়া যায় না। বরং কীভাবে আটকানো যায়, সে চেষ্টাই চলে।
সরকারি চাকরিজীবী নাফিসা তাবাসসুম বলেন, ছুটির দিন হওয়ায় মেলায় এসে রিটার্ন জমা দিয়েছি। আধা ঘন্টার মধ্যেই রিটার্ন জমা দেওয়া ও ব্যাংকের বুথে গিয়ে টাকা পরিশোধ করেছি। কোনো সমস্যা হয়নি। তিনি গত বছর প্রথমবারের মতো রিটার্ন জমা দিয়েছেন।
তরুণ করদাতারা কর প্রদানে এগিয়ে আসায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রীও। সাম্প্রতিক একাধিক বক্তব্যে তিনি বলেছেন, তরুণরা কর প্রদানে এগিয়ে আসছে। তাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ছে। গত মঙ্গলবার আয়কর মেলার উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, বর্তমানে বিভিন্নভাবে প্রায় এক কোটি মানুষ কর দেয়। যদি চার কোটি মানুষ কর দেয় তাহলে সরকারের সুবিধা আরো বিস্তৃত করা সম্ভব।
কর মেলায় তরুণ করদাতাদের পাশাপাশি বয়স্ক, অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ছাড়াও প্রতিবন্ধী করদাতাও এসেছেন। তাদের প্রায় সকলেই কর মেলায় রিটার্ন দাখিল করে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
দুপুরের পর কর মেলা পরিদর্শনে এসে মেলা আয়োজক এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, করদাতারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মেলায় আয়কর দিচ্ছেন। কর অফিসেও যাতে করদাতারা আয়কর মেলার মতো সেবা প্রদান করে সেজন্য তিনি কর কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।
ঢাকায় সপ্তাহব্যাপী আয়কর মেলা শেষ হবে আগামী সোমবার। রাজধানী ছাড়াও দেশের সব বিভাগীয় শহর, সব জেলা শহর ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে থাকা উপজেলাগুলোতে আয়কর মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
চার দিনে ২ লাখ ৬১ হাজার রিটার্ন দাখিল
সপ্তাহব্যাপী আয়কর মেলায় চার দিনে ২ লাখ ৮৮ হাজার ৪৬ জন ব্যক্তি সেবা গ্রহণ করেছেন। মেলার চারদিনে মোট সেবাগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ৯ লাখ। চার দিনে ২ লাখ ৬১ হাজার ২৩৪টি রিটার্ন দাখিলের বিপরীতে আয়কর আদায় হয়েছে ১ হাজার ২৬৭ কোটি টাকা। গতবারের একই সময়ের চেয়ে মেলায় রিটার্ন দাখিল বেড়েছে প্রায় ৬০ শতাংশ। এছাড়া দেশব্যাপী মেলায় ১৯ হাজার ৪১৫ জন কর সনাক্তকরণ নম্বর বা ই-টিআইএন গ্রহণ করেছেন।
