নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে চাঁদাবাজি ও চরের ফসলি জমির মাটি কাটায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জায়দুল বাহিনীর লোকজন গ্রামবাসীর উপর সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত রবি ও সোমবার রাতে দফায় দফায় রূপগঞ্জের টাওরা গ্রামবাসীর উপর সন্ত্রাসীরা হামলা ও তাণ্ডব চালায়। সন্ত্রাসীরা টাওরার (বন্দেরবাড়ি) ১৬টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। খবর পেয়ে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে পুলিশের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের দফায়-দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ৭০ রাউন্ড শটগানের গুলি ছুঁড়ে। সংঘর্ষে পুলিশ, স্কুলছাত্রসহ ৩০ জন আহত হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, রূপগঞ্জ উপজেলার টাওরা গ্রাম ও পলাশ উপজেলার হাসানহাটা গ্রামটি পাশাপাশি। গত দুই মাস আগে টাওরা বন্দের বাড়ি এলাকার মালয়েশিয়া ফেরত বারেক মিয়া ভোলাবো মৌজায় ১৭ শতক জমি ক্রয় করেন। গত ২৭ জানুয়ারি বিকালে হাসানহাটা এলাকার লালু কসাইর ছেলে সন্ত্রাসী জায়দুল কসাই, দেলু কসাই বারেক মিয়ার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এ ব্যাপারে এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে জায়দুল কসাই ও দেলু কসাইকে জিজ্ঞেস করতে যাওয়ায় জায়দুলরা তাদের উপর চড়াও হয়। এর জের ধরে ২৮ জানুয়ারি জায়দুল ও দেলু কসাইয়ের নেতৃত্বে শতাধিক লোকজন দা, লাঠি, বল্লম নিয়ে টাওরা বন্দেরবাড়ি এলাকায় অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীরা ১৬ বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। রাত ৯টার দিকে রূপগঞ্জ থানার ভোলাব তদন্তকেন্দ্রের সহকারী উপ-পরিদর্শক রাশিদুল হাসানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে হাসানহাটের শত শত লোক একত্রিত হয়ে পুলিশকে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে হাসানহাট এলাকাবাসীর সঙ্গে রূপগঞ্জ থানা পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে রূপগঞ্জ পুলিশ শটগানের গুলি ছুড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে ইটের আঘাতে পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক রাশিদুল হাসান, কনস্টেবল জালাল ও আবু সালেহ আহত হন। রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আব্দুল হক বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
