ইয়াঙ্গুন উপকূলে একটি নৌকা থেকে শতাধিক আরোহীকে আটক করেছে মিয়ানমারের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, নৌকার আরোহীরা রাখাইনের রোহিঙ্গা মুসলিম হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, সাগরপথে ঝুঁকি নিয়ে অজানা গন্তব্যে পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করছিল এসব রোহিঙ্গারা। এ ব্যাপারে তদন্ত করছে মিয়ানমার পুলিশ।
গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পূর্ব-পরিকল্পিত নিধন অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা। সম্প্রতি জাতিসংঘের ফ্রাক্ট ফাইন্ডি মিশনের এক প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা নিপীড়নের ঘটনায় মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে দায়ী করা হয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের কোনো নাগরিকত্ব নেই। স্বাধীনভাবে চলাচলের অধিকার নেই। নেই নিরাপত্তাও। এ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সময় দেশটি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে রোহিঙ্গারা। কেউ কেউ সাগরপথে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করে থাকে। বিশেষ করে নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত শুষ্ক মৌসুমে সাগর যখন শান্ত থাকে তখন তারা নৌকায় করে এসব দেশে যাওয়ার চেষ্টা করে। গত সপ্তাহে মিয়ানমারের ত্রাণকর্মীরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রোহিঙ্গাদের নৌকায় করে মালয়েশিয়ায় পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করতে দেখা গেছে।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার সকালে ইয়াঙ্গুন শহরের প্রায় ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণের এলাকায় একটি নৌকা আটকে দেয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। নৌকাটিতে ১০৬ জন আরোহী ছিল। কিয়াউকতান এলাকার অভিবাসন কর্মকর্তা কিয়াউ হটে রয়টার্সকে টেলিফোনে বলেন, সম্ভবত তারা রাখাইন থেকে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের তিরস্কারের পর সু চি’র পাশে চীন
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর সমালোচনা করার পর দেশটির পাশে দাঁড়িয়েছে প্রতিবেশী দেশ চীন। গত বুধবার সিঙ্গাপুরে এক সম্মেলনের সাইডলাইনে মিয়ানমারের কার্যত সরকার প্রধান অং সান সু চির সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও তাদের সহযোগিদের নৃশংসতা ক্ষমার অযোগ্য। দায়ীদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার অগ্রগতি নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান স্পষ্ট করার পর মিয়ানমারের পাশে দাঁড়িয়েছে চীন। বৃহস্পতিবার আসিয়ান সম্মেলনের সাইডলাইনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সু চিকে চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে মিয়ানমার সরকারের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে চীন। তিনি বলেন, মিয়ানমার সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয় চীন। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের সমর্থন রয়েছে। এ ক্ষেত্রে দুই পক্ষকেই প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত চীন।
