আগামী ঈদের আগে এপ্রিল মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস পরিশোধের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা রয়েছে প্রায় ৩০০ তৈরি পোশাক কারখানায়। এর বেশির ভাগই পোশাকশিল্পের মালিকদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সদস্যভুক্ত কারখানা। এ দুটি সংগঠনের বাইরেও কিছু কারখানা রয়েছে। মূলত ছোট আকারের ও ঠিকা ভিত্তিতে (সাবকন্ট্রাক্ট) কাজ করা কারখানাই এ তালিকায় বেশি। সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এ তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত দুই শতাধিক কারখানা রয়েছে। এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে কারখানার মালিকদের আগামী ঈদের তিন দিন আগেই সব ধরনের বকেয়া বেতন ও ঈদের বোনাস পরিশোধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গতবারের ন্যায় এবারও এ খাতের শ্রমিকদের বেতনভাতা পরিশোধের জন্য তিন মাসের বেতনের সমপরিমাণ টাকা নামমাত্র সুদে ঋণ চেয়েছে (প্রণোদনা আকারে) পোশাক ও বস্ত্রশিল্পের মালিকদের তিন সংগঠন। কিন্তু এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সরকারের কাছ থেকে কোনো ‘সবুজ সংকেত’ নেই। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সর্বশেষ গতকাল বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতারা অর্থসবিচবের সঙ্গে ইস্যুটি নিয়ে সভা করেছেন, কিন্তু ইতিবাচক সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। এদিকে শিল্পাঞ্চল পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, এপ্রিল পার হলেও এখনো গত মার্চ মাসের বেতন পরিশোধ করেনি ১৪০টি গার্মেন্টস কারখানা।
বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি এস এম মান্নান কচি ইত্তেফাককে বলেন, তালিকার মধ্যে বিজিএমইএর সদস্য কারখানা দুই শতাধিক। ঈদের আগে এসব কারখানার বেতনভাতা পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে যে কোনো মূল্যে যাতে ঈদের আগে শ্রমিকের পাওনা অর্থ পরিশোধ করে, এজন্য আমরা নিয়মিত তা তদারক করছি। আশা করছি শেষ পর্যন্ত সফল হতে পারব।
তিনি বলেন, ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলোই মূলত সমস্যায় রয়েছে। বিশেষত করোনা পরিস্থিতির কারণে অনেকের ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে সরকারের কাছ থেকে তিন মাসের শ্রমিকের বেতনের টাকা পাওয়া গেলে এ পরিস্থিতি সহজে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
অবশ্য শ্রমিকনেতারা ঈদের আগে বেতন প্রদানের অনিশ্চয়তা ইস্যুটিতে সরকারকে চাপ দিয়ে প্রণোদনার অর্থ আদায়ের চেষ্টা বলে মনে করছেন। জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক-কর্মচারী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রনি ইত্তেফাককে বলেন, ‘শ্রমিক কাজ করেছে, তার বেতন দিতে হবে। কিন্তু এত বছরেও বেতন-বোনাস পরিশোধের সক্ষমতা তৈরি না হওয়া যৌক্তিক কথা নয়। এই সময়ে এসে ঢিল মারে, দেখে কী হয়। চেষ্টা করে চাপ দিয়ে সরকারের কাছ থেকে কিছু আদায় করার। তিনি বলেন, মেশিন বিক্রি করে হলেও শ্রমিকের টাকা দিতে হবে। অবশ্য কিছু কারখানা রপ্তানির অর্থ পেতে দেরি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে তারা ব্যাংকের কাছ থেকে সহায়তা নিতে পারে।
গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা সন্দেহ করি, শেষ পর্যন্ত বোনাস নিয়ে জটিলতা করবে। গতবারের ন্যায় যেনতেন বোনাস দিয়ে শ্রমিকদের বিদায় করতে চাইবে।’
অবশ্য বেতন-বোনাস নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও এখন পর্যন্ত শিল্পাঞ্চলগুলোতে উল্লেখ করার মতো শ্রম অসন্তোষের খবর পাওয়া যায়নি। শ্রমিকনেতারাও তাই বলছেন। গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জের ৩ হাজার ১২২টি পোশাক কারখানা আছে, তার মধ্যে বিজিএমইএর সদস্য ১ হাজার ৮৩৪ এবং বিকেএমইএর সদস্য ৫০২টি কারখানা রয়েছে।
শিল্পাঞ্চল পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. মাহবুবুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, ‘কোথায় কোথায় সমস্যা হতে পারে, তা নিয়ে আমরা ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নিয়ে সমন্বয় সভা করেছি। এ বিষয়ে বিজিএমইএকে আমরা জানিয়েছি। এখন পর্যন্ত শিল্পাঞ্চলে কোনো শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা নেই। কোনো সমস্যা যাতে না হয়, সেজন্য আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে।
