অসহায়দের পাশে ‘মানবতার ডাকঘর’

আপডেট : ০৬ মে ২০২১, ১৩:৩৭

‘মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য’ এই বার্তা নিয়ে চলমান লকডাউনে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষদের জন্য চালু করা হয়েছে ‘মানবতার ডাকঘর’। সেই ডাকঘরের সন্ধান পেতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে একটি মোবাইল ফোন নম্বর (০১৭১১৩২২৭৭০)। এই নম্বরে ফোন করে অসহায় কোনও মানুষ তাদের সমস্যার কথা জানালেই তার ঘরে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় খাবার ও অন্যান্য অনুষঙ্গ। এমনকি রাতের বেলাও অনেকটা গোপনে মানুষের ঘরে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় সামগ্রী।

রাজধানী ঢাকা-১৪ আসনে এমনই একটি মানবতার ডাকঘর খুলেছেন দারুস সালাম থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী ফরিদুল হক হ্যাপী।

সারাবিশ্ব যখন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ভয়ে-তখন নিজ পরিবারের কথা চিন্তা না করে কাজী ফরিদুল হক হ্যাপির নেতৃত্বে ‘মানবতার ডাকঘর’ এর মাধ্যমে খাবার, ওষুধ, অ্যাম্বুলেন্সে ও ডাক্তার নিয়ে জনসাধারণের সেবা প্রদান করা হচ্ছে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। মোবাইল নম্বর দেওয়ার পাশাপাশি ঢাকা-১৪ আসনের প্রতিটি এলাকার মোড়ে মোড়ে ডাকবাক্স ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ডাক্তারের পরামর্শ, খাদ্য সহায়তা থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য পর্যন্ত কারো কিছুর দরকার হলে তা লিখে ঐ বাক্সে রেখে দেয় এলাকার লোকেরা।

No description available.

প্রতিদিন সকালে ফরিদুল হক হ্যাপি তার স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে প্রতিটি মোড়ের সামনে রাখা ডাকবাক্স থেকে চিঠিগুলো সংগ্রহ করেন এবং চাহিদামত ডাক্তার ও দ্রব্যাদি ঐ বাড়িতে পৌঁছে দেন। কাজী ফরিদুল হক হ্যাপী করোনার প্রথম ঢেউয়ের সময়ও অসহায় হয়ে পড়া মানুষের পাশে এসে দাঁড়ানো অনেকের সঙ্গে তিনিও যুক্ত হয়েছিলেন। আছেন এখনও। কিছুটা ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে এসব অসহায় মানুষের এসে দাঁড়িয়েছেন। অসহায় মানুষদের জন্য চালু করেছেন ‘মানবতার ডাকঘর’।

ঢাকা-১৪ আসনে বিভিন্ন এলাকায় প্রথম রজমান থেকে এ পর্যন্ত প্রতিদিন ৫০০ প্যাকেট করে খাদ্য সামগ্রী দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করছেন তিনি। এদিকে দরিদ্রদের ঘরে ঘরে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি মধ্যবিত্তদের জন্য চালু করেছেন গোপন হট লাইন। গোপনে ফোন আসলে তাদের জন্য রাতের আঁধারে প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেন কাজী ফরিদুল হক হ্যাপী। গত ৩০ বছর ধরে যেকোনো দুর্যোগ ও বিপদে এলাকার জনগণের পাশে থেকেছেন, এবারও তার ব্যতিক্রম নয়।

ঢাকা ১৪ আসনের সর্বস্তরের জনগণের কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করে কাজী ফরিদুল হক হ্যাপি বলেন, এই এলাকার অভিভাবক ছিলেন আসলামুল হক আসলাম। তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই। তবে তার যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে লকডাউনে ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র মানুষের পাশে আমি আছি এবং থাকবো।

দরিদ্র মানুষের ঘরে ঘরে ত্রাণ সামগ্রী প্রদান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে কাজী ফরিদুল হক হ্যাপী বলেন, সরকারের নির্দেশনা মেনে চলুন, প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে যাবেন না। প্রয়োজনীয় খাবার ঘরে পৌঁছে দেবো আমরা। ঢাকা-১৪ আসনের একটি মানুষও খাদ্যের অভাবে থাকবে না ইনশাল্লাহ।

ইত্তেফাক/এমআর