সাভারে চার দিনব্যাপী ৪র্থ আন্তর্জাতিক জনগণের স্বাস্থ্য সম্মেলন-২০১৮ এর উদ্বোধন হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সাভারের ব্র্যাক-সিডিএম খাগানে এ সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ব্র্যাক-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং সম্মেলন জাতীয় কমিটির চেয়ারপারসন স্যার ফজলে হাসান আবেদ এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হার্ট ফাউন্ডেশন-এর চেয়ারম্যান ও জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগে. (অব.) আব্দুল মালিক।
জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগে. (অব.) আব্দুল মালিক বলেন, একটি দেশের সমৃদ্ধি নির্ভর করে জনগণের গুণগত শিক্ষা, উন্নত শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য অবস্থার ওপর। বিশ্ব স্বাস্থ্যের সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের ৬৭% লোক অসংক্রামক রোগে মারা যায়। এছাড়া ১২% লোক ক্যান্সার, ৩০% লোক হূদরোগ, ৩% লোক ডায়াবেটিস এবং ১২% লোক অন্যান্য রোগে মারা যায়। তিনি বলেন, এসব রোগ নির্ণয় এবং চিকিত্সা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের জনগণ কিভাবে এসব রোগ সৃষ্টি হয় সে সম্পর্কে সচেতন নয় এবং এর চিকিত্সা তাদের আয়ত্বের বাইরে। সরকারের একার পক্ষে এসব রোগ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। তাই জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম, পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ, ধর্মীয় নেতা, বুদ্ধিজীবী সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে যাতে করে তৃণমূলের জনগণ এসব রোগ সম্পর্কে সচেতন হতে পারে। তিনি সরকারের প্রতি হতদরিদ্র, সুবিধা বঞ্চিতদের বিনামূল্যে চিকিত্সা সেবা প্রদানের আহবান জানান। এছাড়া স্বাস্থ্য বীমা, চিকিত্সার জন্য সহজ শর্তে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ প্রদানের বিষয়েও জোর দেন।
স্যার ফজলে হাসান আবেদ তার বক্তব্যে বলেন, জনগণের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে রাজনৈতিক উদ্যোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ২য় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী ইউরোপে বিশেষ করে যুক্তরাজ্য এবং জার্মানিতে সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বৃদ্ধিতে রাজনৈতিক উদ্যোগ ভূমিকা রেখেছিল। বাংলাদেশে সরকারের উদ্যোগে ১৯৮২ সালে জাতীয় ওষুধ নীতি প্রণয়নকে যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে খুব শীঘ্রই একটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তিনি সকল রাজনৈতিক দলকে জনগণের স্বাস্থ্যসেবাকে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে অগ্রাধিকার দেয়ার বিষয়ে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান।
সাবেক তত্ত্ববধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান সবার জন্য স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি নাগরিক সমাজ, উন্নয়ন সংগঠন এবং সর্বোপরি জনগণকে সচেতন হওয়ার ওপর জোর দেন।
অনুষ্ঠানে এছাড়া বক্তব্য রাখেন, অস্ট্রেলিয়ার ফ্লাইন্ডারস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফ্রান বাউম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পিএইচএম- বাংলাদেশ এর চেয়ারপারসন জাকির হোসেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরপরই অনুষ্ঠিত প্লেনারি অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন পিএইচএম এর গ্লোবাল কো-অর্ডিনেটর ব্রিজিত লায়ড। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন এল সালভাডর স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী ড. ইডোরাডো এসপিনোযা। আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়েস্টার্ন কেপ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডেভিড স্যান্ডারস এবং ইটালির বোলোনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক চায়রা বোডিনি।
সম্মেলনের ১ম দিনে উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষিত, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বৈশ্বিক কাঠামো, এসডিজি: চলতি অন্যায্য ব্যবস্থা আর কত?, বাণিজ্য ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং দখলদারিত্ব, সামরিক হস্তক্ষেপ এবং শরণার্থী সমস্যা ইত্যাদি ইস্যুতে প্লেনারি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের সার্বিক সাফল্য কামনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশেষ বাণী প্রদান করেছেন।
এ সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৭০০ বিদেশিসহ বাংলাদেশ থেকে স্বাস্থ্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, চিকিত্সকসহ প্রায় ১,৫০০ প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করছেন।
