বুখারি শরিফের বর্ণনায় এসেছে, একদিন নবিজি (স) মিম্বরের সিঁড়িতে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলেন আমিন। পরের সিঁড়িতেও পা রেখে বললেন, আমিন। আমিন বললেন, তৃতীয় সিঁড়িতে পা রেখেও। বলা নেই কওয়া নেই হঠাত্ এমন করুণ সুরে ব্যথা ভরা মনে আমিন আমিন বলার রহস্য কী—সাহাবিরা জানতে চাইলেন। মলিন মুখে নবিজি (স) বললেন, আমার প্রিয় সাহাবিরা! একটু আগেই জিবরাইল এসেছেন আমার কাছে। বড় বেদনার কথা বলে গেলেন তিনি। বললেন, হে আল্লাহর নবি! তিন পোড়া কপালের জন্য এখন আমি বদদোয়া করব, প্রতিটি দোয়া শেষে আপনি আমিন বলবেন।
তারপর নবিজি বলেন, আমি যখন প্রথম সিঁড়িতে পা রাখি, জিবরাইল বললেন, বৃদ্ধ বাবা-মাকে পেয়েও যে জান্নাত অর্জন করতে পারল না তার জন্য ধ্বংস। আমি বললাম, আমিন। দ্বিতীয় সিঁড়িতে যখন পা রাখি, জিবরাইল বললেন, যে আপনার নাম শুনবে কিন্তু দরুদ শরিফ পড়বে না, তার জন্য ধ্বংস। আমি বললাম, আমিন। আর যে রমজান মাস পাবে কিন্তু নিজের গুনাহ মাফ করিয়ে নিজেকে জান্নাত উপযোগী মানুষ বানাতে পারবে না, তার জন্যও ধ্বংস। তৃতীয় সিঁড়িতে পা রাখার সময় এ দোয়া করলেন জিবরাইল। আমি বললাম, আমিন। অনেকেই ভাবছেন, রমজানের আরো কয়েক দিন বাকি আছে। এই সময়ে আমরা কোমর বেঁধে ইবাদতে লেগে যাব। কেঁদেকেটে সব গুনাহ মাফ করিয়ে নেব। এটি অলসতা ছাড়া আর কিছু নয়। আমরা আজ করছি কাল করছি করে একদিন দেখি রমজান শেষ হয়ে গেছে। তখন আমরা সেই কাতারে পড়ে যাই, যার উদ্দেশে নবিজি (স) বলেছেন, রমজান পেয়েও যে গুনাহ মাফ করাতে পারল না তার জন্য ধ্বংস।
আসুন, সামনের দিনগুলোর প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহকে রাজিখুশি করানোর সাধনায় কাটিয়ে দিই। মনে রাখবেন, যে সুযোগ চলে যায়, তা আর ফিরে আসে না। করছি করব, ভালো হচ্ছি হব—এসব কথা আসলে শয়তানের ধোঁকা ছাড়া কিছুই নয়। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে আখেরাতের ভালোটুকু বোঝার তাওফিক দিন। দুনিয়ার আপদ-বিপদ ও প্রতারণা থেকে আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন। আমিন।
lলেখক :চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ মুফাসসির সোসাইটি
