(পূর্ব প্রকাশের পর)
১২ নং মাসায়েল-কোন্ কোন্ চিকিত্সায় বা ঔষধ সেবনে রোযা ভাঙ্গবে না: “শুধু অক্সিজেন গ্রহণের কারণে রোযা নষ্ট হবে না; কারণ তা সাধারণ বাতাস গ্রহণেরই নামান্তর। কিন্তু তার সঙ্গে ঔষুধ থাকলে রোযা নষ্ট হবে” (জাদীদ ফিকহি মাসাইল: ১/১৮৮+ ইমদাদুল মুফতীন: পৃ-৪৮৮-৪৯২; দারুল ইশা‘আত, করাচী)।
১৩ নং মাসায়েল “ঔষুধ ব্যবহারের মাধ্যমে মহিলাদের মাসিক স্রাব বন্ধ রেখে ত্রিশ রোযা পূর্ণ করে নেয়া বৈধ। এতে কোন পাপ হবে না। তবে মাসিকের সাধারণ গতি বন্ধ রাখায় স্বাস্থ্যগত ক্ষতি হলে, সেটা ভিন্ন ব্যাপার; যা বিজ্ঞ চিকিত্সকগণই ভালো বলতে পারেন” (জাদীদ ফিকহি মাসাইল: ১/১৮৮)।
১৪ নং মাসায়েল “রোযা রেখে শরীরে থেকে রক্ত দিলে বা শরীরে রক্ত নিলে রোযার কোনো ক্ষতি হয় না। কারণ হিসাবে বলা হয়েছে, বিধি মোতাবেক যেসব পথে (মানফায) কোনো কিছু প্রবেশ করালে রোযা ভঙ্গ হয়; সেসব পথে রক্ত প্রবেশ বা বের করা হয় না”(ইমদাদুল মুফতীন: পৃ-৪৮৮-৪৯২; দারুল ইশা‘আত, করাচী /জাদীদ ফিকহি মাসাইল: ১/১৮৮)।
১৫ নং মাসায়েল “একইভাবে চিকিত্সাস্বরূপ স্যালাইন গ্রহণেও রোযা নষ্ট হয় না। কারণ, তা সেই সুনির্দিষ্ট পথ বা ছিদ্রের বাইরে রগের মাধ্যমে বা গোশতে গ্রহণ করা হয়”(জাদীদ ফিকহি মাসাইল: ১/১৮৮ ইমদাদুল মুফতীন: পৃ-৪৮৮-৪৯২; দারুল ইশা‘আত, করাচী)।
১৬ নং মাসায়েল “রোযা অবস্থায় ডায়াবেটিস রোগির ইনসুলিন ব্যবহারেও রোযা নষ্ট হয় না। কারণ, তা-ও সেই ইনজেকশনের মাধ্যমে রক্ত গ্রহণের অনুরূপ। (জাদীদ ফিকহি মাসাইল: ১/১৮৮; ইমদাদুল মুফতীন: পৃ-৪৮৮-৪৯২; দারুল ইশা‘আত, করাচী)।
১৭ নং মাসায়েল “রোযা অবস্থায় চোখে ঔষুধ বা ড্রপ সুরমা বা মলম ব্যবহারে রোযা নষ্ট হয় না; যদিও এসবের স্বাদ গলায় অনুভূত হয়। মাথায় তৈল ব্যবহারে এবং আতর-সুগন্ধি ব্যবহারে রোযা নষ্ট হবে না। কারণ, এসব ক্ষেত্রে রোযা না ভাঙ্গার বিষয়টি সরাসরি হাদীস দ্বারা প্রমাণিত”(মারাকিউল-ফালাহ: পৃ-৩৬১/জাদীদ ফিকহি মাসাইল: ১/১৮৮)।
১৮ নং মাসায়েল :‘রোযা অবস্থায় দিনের বেলায় স্ত্রীর সঙ্গে কোলাকুলি, চুমু খাওয়া ও মাখামাখিতে রোযা ভঙ্গ হয় না; তবে তাতে যদি বীর্যপাত হয়ে যায় (সঙ্গম ব্যতীত) তা হলে ওই রোযাটি কাযা করতে হবে; কাফফারা আদায় জরুরি হবে না। কিন্তু ওই অবস্থাতে যদি সঙ্গমও করা হয়; সেক্ষেত্রে কাযা ও কাফফারা উভয়টি ফরয হয়ে যাবে’ (আযীযুল ফাতাওয়া:পৃ-৩৮৫, দারুল-ইশা‘আত, করাচী)।
১৯ নম্বর মাসায়েল : ‘মাহে রমজানে রোজা রাখা অবস্থায় তাস খেলা, পাশা খেলা, দাবা ইত্যাদি অনুমোদিত নয়। এসব খেলার কারণে রোজা নষ্ট হবে না, কিন্তু তাতে রোজার সওয়াব কমে যাবে। অবশ্য ব্যায়াম হয় ও শারীরিক শক্তি, সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়; অথচ তাতে আবার নামাজ-রোজা ও জরুরি কোনো কাজেরও বিঘ্ন না ঘটে; সেক্ষেত্রে তেমন কোনো খেলার দরুন রোজা নষ্টও হবে না, সওয়াবও হ্রাস পাবে না; বরং নেক নিয়তের দরুন অতিরিক্ত সওয়াবও পাওয়া যেতে পারে’ (আজিজুল ফাতাওয়া :পৃ. ৩৮৯,দারুল-ইশা‘আত, করাচি, ইত্যাদি)।
২০ নম্বর মাসায়েল : ‘রোজা অবস্থায় হোক্কা পান ও তামাকপাতা (নিসওয়ার) সেবনে রোজা ভেঙে যাবে (ইমদাদুল মুফতিন : পৃ. ৪৯৩-৪৯৪; দারুল ইশা‘আত, করাচি : সূত্র :আলমগিরি ও খোলাসাতুল ফাতাওয়া ইত্যাদি)। [সমাপ্ত]
lলেখক : মুফতি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ঢাকা
