বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

আপডেট : ০৬ মে ২০২১, ২১:৩৯

উন্নয়নশীল দেশের কথা চিন্তা করলেই চোখে ভেসে ওঠে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন একটি দেশ। কিন্তু বাস্তবে বাংলাদেশের চিত্র ভিন্ন। এ দেশের শহরগুলো যেন দিন দিন বর্জ্যের সাগরে ডুবে যাচ্ছে। এর কারণ সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় যেমন দেখা দিয়েছে কর্তৃপক্ষীয় উদাসীনতা, তেমনিভাবে জনসচেতনতার অভাবও দিন দিন বাড়ছে। যেখানেই খালি জায়গা সেখানেই বর্জ্যের স্তূপ। বাড়ির আশপাশ থেকে শুরু করে খেলার মাঠ, নদীনালা, খাল-বিল কোনো কিছুই বর্জ্যদূষণের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। এমনও গৃহকর্মী আছেন রান্নাঘরের জানালার পাশে কোনো খালি জায়গা থাকলে আর কোনো কথা নেই—রান্নাঘরের পচনশীল, অপচনশীল যত ধরনের বর্জ্য আছে সবকিছু ছুড়ে ফেলেন ঐ খালি জায়গায়। এ যে আকাশের দিকে তাকিয়ে থুতু ফেলার মতো অবস্থা সেটা তাঁরা বুঝতে পারছেন না। ফলে শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসে ক্যান্সারসহ জটিল রোগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি প্রজন্ম যদি দীর্ঘসময় বায়ুদূষণের মধ্যে কাটিয়ে দেয়, তার মারাত্মক প্রভাব পড়ে পরবর্তী প্রজন্মের ওপর। তাই সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলব, টেকসই সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হোক, এতে যেমন একটি সুন্দর দেশ গড়তে পারব তেমনি অর্থনৈতিকভাবেও আমাদের লাভবান হওয়ার সুযোগ আছে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলো যেমন সুইডেন, নরওয়ে তাই করছে। তারা বর্জ্য রিসাইকেল করে লাভজনক ব্যবহারযোগ্য বিভিন্ন জিনিস তৈরি করছে। এমনকি অন্য দেশ থেকেও বর্জ্য আমদানি করছে। তাই বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করতে সরকারি উদ্যেগের পাশাপাশি জনসচেতনতা খুবই জরুরি। তাই পাঠ্যপুস্তকেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অন্তর্ভুক্ত করা হলে শিক্ষার্থী থাকাকালীন সবাই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্বন্ধে ভালো ধারণা পাবে।

জনি পুরকায়স্থ

মেজরটিলা, সিলেট