চট্টগ্রামে চাকরির ভুয়া নিয়োগপত্র পাঠিয়ে অর্থ আদায়

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২২:৩৪

চাকরির ভুয়া নিয়োগপত্র পাঠিয়ে চট্টগ্রামের তরুণ-তরুণীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নগরীর বহদ্দারহাট খাজা রোড এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা গতকাল শুক্রবার ইত্তেফাক কার্যালয়ে এসে এ অভিযোগ করেন। শুধুমাত্র খাজা রোড এলাকায় ১৬ তরুণ-তরুণী এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে তারা জানিয়েছেন। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে মাঠকর্মী হিসেবে নিয়োগপত্র পাঠিয়ে তাদের কাছ থেকে দফায় দফায় অর্থ আদায় করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। তবে চাকরি দেওয়া দূরে থাকুক, টাকা ফেরত চাইলে তাদেরকে হুমকি ধামকি দেয়া হচ্ছে। নতুন চাকরিতে যোগদানের আশায় অনেকে আগের চাকরি ছেড়ে বর্তমানে বেকার জীবন কাটাচ্ছেন বলে ভুক্তভোগী তরুণ-তরুণীরা জানান।

জানা গেছে, গত আগস্টে খাজা রোড এলাকার বাসিন্দা জান্নাতুল নাঈম নামে এক তরুণীর পিতার মোবাইলে কল করে এক ব্যক্তি তাকে চাকরি দেওয়ার কথা বলেন। কয়েকদিন পর তাদের বাসার ঠিকানায় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, বাড়ি-২৯০, রোড-৬, মোহাম্মদীয়া হাউজিং সোসাইটি, ঢাকা-১২০৭ ঠিকানাযুক্ত একটি নিয়োগপত্র আসে। এতে বেতন ১৩ হাজার ৫০০ টাকার কথা উল্লেখ করা হয়। এর কয়েকদিন পর আবার ফোন করে একটি বিকাশ নম্বরে ২০৫০ টাকা পাঠাতে বলা হয়।

জানা গেছে, জান্নাতুল নাঈম ছাড়াও আরো কয়েকজনের পরিবারের কাছে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে তাদের সন্তানদের চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেয়া হয়। এভাবে প্রায় ১৬টি পরিবারের কাছ থেকে ৫০০০ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেওয়া হয়। তাদেরকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইন্টারভিউ আছে বলে জানানো হয়। ইন্টারভিউর আগে সার্জিক্যাল ইন্সট্রুমেন্ট কিনে দেওয়ার কথা বলে আরো তিন হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। তবে এখন পর্যন্ত ইন্টারভিউ বা চাকরি কোনোটাই হয়নি।

প্রতারণার শিকার জান্নাতুল নাঈম ইত্তেফাককে জানান, ‘মাঠ কর্মীর চাকরি দেওয়ার কথা বলে আমাদের এলাকার ১৬ জনের কাছ থেকে দফায় দফায় টাকা নেওয়া হয়েছে। আমরা বিকাশ ও রকেটে টাকা পাঠিয়েছি। নিয়োগপত্র পাঠানো হলেও আমরা চাকরিতে যোগ দিতে পারিনি। ফোন করে জানতে চাইলে আমাদেরকে হুমকি ধামকি দেয়া হচ্ছে। টাকা ফেরত দিতে বললে ঢাকা যেতে বলে।  মিতা আক্তার নামে এক চাকরিপ্রার্থী জানান, নতুন চাকরির আশায় অনেকে আগের চাকরি ছেড়ে দিয়ে দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছেন। আগে উনারা (নিয়োগকর্তা) ফোন করলে ধরতেন। কিন্তু এখন তারা ফোনও ধরেন না।’

এ ব্যাপারে অভিযোগকারীদের দেওয়া একটি মোবাইল নম্বরে ফোন করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।